• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

আলাল

নির্বাচনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না হলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৯ পি.এম.
কথা বলছেন সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ছবি: ভিওডি বাংলা

নির্বাচন ঘিরে কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রশাসনিক বিভ্রান্তি ও কিছু অসংগতির কারণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মুয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

 তিনি বলেন, উন্নত মানসিকতা ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও কাঠামোগত সমস্যাগুলো অক্ষত থাকলে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ই জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান ২ হোটেল লেক ক্যাসেল এ বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলাল বলেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। একটি দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে ভোটের আগে তরুণদের রাজনৈতিক দল গঠন ও ভবিষ্যৎ এমপি মন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গ তোলাকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারপ্রধানের কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

তিনি প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।তিনি বলেন, ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যে ধানের শীষে সিল দিলেও ব্যালট ভাঁজ করার পর কালি অন্য প্রতীকে লেগে ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এটি পরিকল্পিতভাবে ভোট বাতিলের একটি কৌশল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান আলাল।

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভুল সংক্রান্ত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন নারী ভোটার তার নাম সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে একপর্যায়ে তিনি সংশোধনের আশা ছেড়ে দেন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে নির্বাচনী ব্যবস্থার ভেতরে গভীর কাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে।

আলাল বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রজন্মগত ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতিকে রাজপথ থেকে সংসদে ফিরিয়ে আনার এই সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্যায়ে ‘টাই-ব্রেকিং ডিসিশন’ নেওয়ার মতো নৈতিকতা ও দৃঢ়তার প্রয়োজন, যা ইতিহাসে অনেক নেতা ক্ষমতার বাইরে থেকেও দেখিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন মানে শুধু ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণা নয়; বরং এমন একটি নির্বাচন যেখানে সম্ভাব্য পরাজিত প্রার্থীরাও অংশগ্রহণে আগ্রহী থাকেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেও এটাই সুষ্ঠু নির্বাচনের সংজ্ঞা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আলাল বলেন, সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর রক্তপাতহীন নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে কমিটমেন্ট থাকলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও সহিংসতা এড়ানো সম্ভব।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এই সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই দলের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক গণতন্ত্রায়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভিত্তির গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রয়োজন।

নিজ দলের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনাই প্রকৃত বন্ধুর কাজ। বিএনপির ভেতরে ভুল সংশোধনের মানসিকতা রয়েছে বলেই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তা এখনো বহাল রয়েছে।

আলাল বলেন, বর্তমান ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে শান্তিপূর্ণভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারলে ভবিষ্যৎ আরও সুগম হবে।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে
আবদুস সালাম: বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে
নির্বাচন ভবনে সিইসি ও বিএনপির বৈঠক শুরু
নির্বাচন ভবনে সিইসি ও বিএনপির বৈঠক শুরু
ভবিষ্যতের সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করবে: নজরুল ইসলাম
ভবিষ্যতের সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করবে: নজরুল ইসলাম