ঐক্যের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন রাশেদ প্রধান

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে’ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রাশেদ প্রধান বলেন, তিনি এবার নিজে প্রার্থী হচ্ছেন না, তবে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে মাঠে থাকবেন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে যেসব প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, তাদের হয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি নেতা-কর্মীদের সংযম ও সৌহার্দ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঐক্যের আসন সমঝোতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ঐক্য প্রক্রিয়া, আসন ভাগাভাগি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের শরিক দলগুলো রাজপথের সহযোদ্ধা ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। এ কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সব দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একে অপরের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও অশোভন ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে রাশেদ প্রধান বলেন, ব্যক্তি রাশেদ প্রধানের চেয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঐক্য রক্ষা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ ত্যাগ করাই এখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে এবং ঐক্যের প্রার্থীদের হয়ে মাঠে থাকবেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সংগ্রামে তিনি আগের মতোই সক্রিয় থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, তারা চাইলে তাদের ‘চিরাচরিত ভাষায়’ সমালোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ইতিহাস প্রমাণ করবে ঐক্যের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাশেদ প্রধানের এই সিদ্ধান্ত আসন সমঝোতা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে এবং বিরোধী জোটের ঐক্য দৃশ্যমান করতে সহায়ক হবে। এতে নির্বাচনী মাঠে বিরোধী জোটের কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলেও তারা মনে করছেন।
ভিওডি বাংলা/জা



