৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
৫ দফা দাবিতে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের চলমান সংকট নিরসন, নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগে বিসিবির ভূমিকা স্পষ্ট করা, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ, নারী ক্রিকেটে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার সন্দেহে বাদ পড়া ৯ ক্রিকেটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, “মাঠে ফেরার শর্ত একটাই—বিসিবি থেকে লিখিতভাবে কমিটমেন্ট আসতে হবে যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই ব্যক্তি (এম নাজমুল ইসলাম) বিসিবিতে থাকবেন না। যদি তিনি থেকে যান এবং ক্রিকেটাররা খেলা বন্ধ করে দেন, তাহলে তার দায়ভার ক্রিকেটারদের নয়, সম্পূর্ণভাবে বিসিবিকেই নিতে হবে।”
বিপিএলের আজকের ম্যাচ প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, “আজকের ম্যাচটি বাতিল হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচ হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে বোর্ডের কাছে অনুরোধ থাকবে, যারা টিকিট কেটে মাঠে এসেছেন, ভবিষ্যতে যেন তারা বিনামূল্যে ম্যাচটি দেখতে পারেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি।”
মূলত বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিসিবিতে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও আর্থিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললে বিসিবির কতটা আর্থিক ক্ষতি হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “কোনো ক্ষতি নেই।”
এছাড়া তিনি আরও বলেন, “আমরা ক্রিকেটারদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তারা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা কোনো বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? আমরা তো চাইলে বলতে পারি—তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যে খরচ করেছি, সেটার টাকা ফেরত দাও।”
তার এসব মন্তব্য ঘিরেই ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত খেলা বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্তে পৌঁছান ক্রিকেটাররা।
ভিওডি বাংলা/ এসআর/ আরিফ







