• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ইস্যুতে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪০ পি.এম.
অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদিত-ছবি-ভিওডি বাংলা

অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি প্রদান বিষয়ক আইন অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।

আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলাগুলো সরকার প্রত্যাহার করবে এবং নতুন কোনো মামলা দায়ের করা হবে না। তিনি আরও জানান, ওই সময়কালীন ঘটনা এবং অভিযুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বা গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারের সুযোগ থাকবে। এ ধরনের ঘটনার তদন্তের জন্য মানবাধিকার কমিশন একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আগের দিকে, ৮ জানুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আইন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরদের সুরক্ষা দিতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি দিতে প্রণীত হয়েছে। অধ্যাপক নজরুল আরও উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের সময়কার যোদ্ধারা দেশকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমনমূলক শাসন থেকে মুক্ত করতে জীবন বাজি রেখেছিলেন। সেই সময়ে তারা যেসব প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন, তার জন্যই তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

আইন উপদেষ্টা এই ধরনের আইন প্রণয়নকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বলেও উল্লেখ করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে আরব বসন্তসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন, যেখানে বিপ্লবীদের সুরক্ষার জন্য অনুরূপ আইন করা হয়েছিল।

অধ্যাপক নজরুল জানান, সংবিধান ও মুক্তিযোদ্ধাদের নজির অধ্যাদেশটির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে এই ধরনের দায়মুক্তি আইন প্রণয়নের বৈধতা রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পরও মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য অনুরূপ দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে এবার একই ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই আইন কোনও ধরনের রাজনৈতিক চাপে নয়, বরং আইনের প্রতি সম্মান ও ইতিহাসের স্বীকৃতি হিসেবে প্রণীত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং তাদের নিরাপদ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে, জুলাই ২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা দেশের স্বার্থে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তারা ভবিষ্যতে ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন, তবে আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন বা ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ডের দায়ে বিচারের সুযোগ থাকবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গণভোট নিয়ে প্রচারণায় জেলা সফরে যাচ্ছেন উপদেষ্টারা
গণভোট নিয়ে প্রচারণায় জেলা সফরে যাচ্ছেন উপদেষ্টারা
নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কথা ভাবতে হবে : রিজওয়ানা
নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কথা ভাবতে হবে : রিজওয়ানা
পে-স্কেল নিয়ে ফের বৈঠক আজ
পে-স্কেল নিয়ে ফের বৈঠক আজ