সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার সিদ্ধান্ত

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তার (আনিস আলমগীর) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান মামলাটি দায়ের করবেন।’
দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক বলছে, আনিস আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে তার ব্যয় পাওয়া যায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে ব্যয়সহ তার নামে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
দুদক বলছে, আনিস আলমগীরের খাতওয়ারী বৈধ আয়ের পরিমাণ ও অর্জিত সম্পদের মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে’।
অনুসন্ধানের বরাতে সংস্থা বলছে, তার নামে মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা, যেখানে সর্বশেষ আয়কর নথি অনুযায়ী নিট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬৮ টাকা।
যাচাইয়ে দেখা যায়, তার গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয়ের মোট পরিমাণ ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা, যার মধ্যে অতীত সঞ্চয় থেকে ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টকশো ও কনসালটেন্সি কার্যক্রম থেকে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ থেকে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে এসব আয় ও তার অর্জিত মোট সম্পদ তুলনা করলে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ ‘জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে প্রতীয়মান হয়, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেইসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলছে গত কয়েক দিন ধরে।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনেন। তারা উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগ দেন। এই অভিযোগই মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করার তথ্য জানালো পুলিশ।
সকালে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন মিডিয়ায় টকশোতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে সেখানে। বিষয়টি সাইবার সংক্রান্ত।’
এই মামলায় অপর আসামিরা হলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা (ফ্যাশন মডেল) ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ (উপস্থাপক)।
ভিওডি বাংলা/ এমএম/এমপি







