• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সারিয়াকান্দি

যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট তীব্র, বন্ধ একাধিক নৌরুট

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি    ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২০ পি.এম.
যমুনা নদীর তীব্র নাব্যতা সংকট। ছবি: ভিওডি বাংলা

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট গত কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে কৃষকরা।

একসময় বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদী প্রমত্তা রূপ ধারণ করত। তখন নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতো। তবে চলতি বছরে যমুনার পানি বিপদসীমা ছুঁয়েও দেখেনি। ফলে বন্যা না হলেও নদীর পানি দ্রুত কমে গিয়ে বর্তমানে প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। এর ফলে সারিয়াকান্দি অংশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র নাব্যতা সংকট।

নাব্যতা কমে যাওয়ায় যমুনা নদীতে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠেছে। এসব চরে প্রতিনিয়ত নৌকা আটকে পড়ছে। মাঝিদের অনেক সময় পানিতে নেমে কাঁধে ভর করে নৌকা ঠেলে পার করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী ও মাঝিদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

উপজেলার ব্যস্ততম নৌরুট সারিয়াকান্দি–মাদারগঞ্জ নৌপথেও নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ সংলগ্ন প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল বালুচর সৃষ্টি হয়েছে। নৌচলাচল সচল রাখতে মাঝিরা নিজেদের অর্থ ব্যয়ে চর কেটে সরু একটি খালের মতো পথ তৈরি করেছেন। সেই পথ দিয়েই কষ্ট করে প্রতিদিন শতাধিক নৌকা চলাচল করছে।

নাব্যতা সংকটের কারণে পারতিত পরল গ্রামের আলতাফ আলী খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া, নিজবলাই, দিঘাপাড়া, চারালকান্দিসহ উপজেলার একাধিক খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি নদীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধু-ধু বালুচর তৈরি হওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন।

অনেকে ঘোড়ার গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে অথবা পায়ে হেঁটে মাথায় করে কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, উপজেলার মোট কৃষি উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আসে যমুনার চরাঞ্চল থেকে। নৌপথ বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বাজারে সেই অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।

আলতাফ আলী খেয়াঘাটের মাঝি আলতাফ আলী জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে তার খেয়াঘাট কয়েক মাস ধরে বন্ধ। তিনি বলেন, “যে টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি, এ বছর তা উঠবে কি না সন্দেহ।”

কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া চরের কৃষক মহসিন আলী বলেন, “নদীতে পানি থাকলে নৌকায় সহজেই ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন ঘোড়ার গাড়িতে প্রতি বস্তা সার বা মরিচ পরিবহনে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।”

সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাটের মাঝি আমিনুল ইসলাম জানান, “নৌকা বারবার চরে আটকে যাচ্ছে। নিজেদের টাকা খরচ করে ড্রেজিং করে কোনোমতে নৌপথ চালু রেখেছি।”

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। নৌবন্দর স্থাপিত হলে সারাবছর নৌপথ ড্রেজিংয়ের আওতায় আসবে। তিনি এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ এবং নদীর ড্রেজিংয়ের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

ভিওডি বাংলা/ মনিরুজ্জামান জাহিদ/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট
মাদারীপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট
মাজাহারুল ইসলাম মিতুলের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
গৌরীপুরে বিএনপি নেতা মাজাহারুল ইসলাম মিতুলের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
মধুপুর গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত