খালেদা জিয়ার স্মরণে
নাগরিক সমাজের শোকসভায় সেলফি তোলা নিষেধ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজ আয়োজিত শোকসভা আগামীকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান আয়োজকরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরং খালেদা জিয়ার প্রতি জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদনের মানবিক উদ্যোগ। তাঁর প্রতি ভালোবাসা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজ আয়োজিত শোকসভার বিস্তারিত জানাতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এসব জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিয়মাবলী তুলে ধরেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিপুলসংখ্যক মানুষ তার প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। নাগরিক সমাজও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দেশের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ আয়োজন। এটি একটি পবিত্র অনুষ্ঠান, গাম্ভীর্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, শোকসভাটি রাজনৈতিক দলভিত্তিক নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন না। বিভিন্ন পেশার শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক ও অন্য পেশাজীবীরা বক্তব্য দেবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা দর্শকসারিতে থাকবেন।
মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘দার্শনিকভাবে বলতে গেলে মানুষের প্রতিটি কাজই রাজনীতির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। সেই হিসেবে এই আয়োজন রাজনৈতিকও বটে, আবার অরাজনৈতিকও। কারণ বক্তব্য দেবেন কেবল পেশাজীবীরা, রাজনৈতিক দলভুক্ত কেউ নন।
তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এ শোকসভা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে। খালেদা জিয়ার প্রতি জাতির শ্রদ্ধা যেন সম্মানজনক ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে প্রতিফলিত হয়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শোকসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আয়োজকেরা জানান, বক্তব্য দেবেন শুধুই পেশাজীবী সমাজের আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা। রাজনৈতিক দলের কেউ বক্তব্য দেবেন না। তবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, শোকসভার আয়োজকেরা শোকসভার জন্য কঠোর নিয়মাবলী ঘোষণা করেন। তারা জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানে সেলফি তোলা যাবে না। হাততালি দেয়া যাবে না। দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। আমন্ত্রণপত্র ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে অতিথিদের মধ্যে কেউ আমন্ত্রণপত্র আনতে ভুলে গেলে তার জন্য বিকল্প প্রবেশপত্র থাকবে। তা কেবল তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য। আর এ আয়োজন কোনো জনসভা বা রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। এটি শ্রদ্ধা জানানো ও নীরব উপস্থিতির একটি অনুষ্ঠান।
মাল্টিমিডিয়ার কর্মীরা আসতে পারবেন কি না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয় অফিস যাকে দায়িত্ব দেবে, সেই রিপোর্টার, ক্যামেরাম্যান বা মাল্টিমিডিয়া কর্মী প্রবেশ করতে পারবেন। তবে অবশ্যই আমন্ত্রণপত্র থাকতে হবে।
লাইভ কভারেজের বিষয়ে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাংবাদিকদের জন্য ওয়াইফাই, টাওয়ার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে। বিটিভি মূল লাইভ প্রচার করবে এবং অন্যান্য চ্যানেল চাইলে সেখান থেকে ফিড নিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সালেহ উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ফারুক ওয়াসিস, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডাঃ সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত,হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, আশরাফ কায়সার, জাহেদুর রহমান প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







