রবিন
খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করেই আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মান করবে বিএনপি

ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএবপি) জনগণের ভালোবাসা আর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দেশপ্রেম ধারণ করেই আগামীতে সুখি, সমৃদ্ধ এবং ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
বৃহাস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শ্যামপুর থানার ৫৪ নং ওয়ার্ড খন্দকার রোড এর সনাতন ধর্মাবল্বীগণের আয়োজনে প্রয়াত সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভায় স্মৃতিচারণ কালে তিনি একথা বলেন।
রবিন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি এসেছিলেন এদেশের মানুষের জন্য।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন এবং আমাদের ও থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই মানুষটির জন্য আজ দোয়া ও আশীর্বাদ করছে সমগ্র দেশ কারণ তিনি মানুষকে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিবেচনা করেননি। তিনি মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখেছেন। ভালোবেসেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে।
তিনি আরও বলেন, ৫ই আগস্টের পর আপনারা দেখেছেন বিভিন্ন মন্দিরে হামলা হয়েছে এগুলোর সবগুলোই আওয়ামীলীগের গুন্ডাপান্ডারা করেছে আপনাদের আর আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে। এর আগেও বিভিন্নভাবে বিএনপিকে ষড়যন্ত্রের শিকার বানিয়েছে। নির্যাতন করেছে গণতন্ত্রের মা আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর।কথা দিয়ে বার বার করেছে লাঞ্ছিত, অপমানিত। তবে দেশনেত্রী আমাদের শিখিয়েছেন ভিন্ন পথ, ভালোবাসার আদর্শ। এতোকিছু করার পরও কখনো তিনি ফ্যাসিস্টদের ছোট করে কোন কথা বলোননি। সবভুলে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন সকলের সাথে। প্রতিশোধ পারায়ণ না হয়ে দেখিয়েছিলেন মহানুভবতা।
আজ আমি এখানে এসেছি দেশনেত্রীর প্রার্থনায় অংশ নিতে, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনারা আমাদের সুযোগ দিলে আগামীর বাংলাদেশ হবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ। যেখানে থাকবেনা কোন ধর্মের ভেদ, থাকবে না জাতি,বর্ণভেদ। আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আপনারাই আমার সব। আমি আপনাদের সন্তান। এখানে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি সন্তান আপনাদের। তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ নেই। আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। আমাদের এলাকায় কোন একক সিদ্ধান্ত অথবা একক আধিপত্য থাকবে না, এখানে প্রতিটি মানুষের কথা বলার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে।
নিজ এলাকার মানুষের দুঃখ, দূর্দশার কথা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় সাবেক বিনাভোটে নির্বাচিত যে নেতারা ছিলেন তারা কেউ এই এলাকার সন্তান ছিল না ফলে তারা আমাদের বুঝত না। ১৮ বছরে আমরা কিছুই পাইনি।
আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা, কঠোর পরিশ্রমী বৃহৎ এই এলাকার মানুষের জন্য নেই কোন সরকারি হাসপাতাল সুবিধা, পারিবারিক-সামাজিক উৎসব করার জন্য নেই কোন সরকারি কমিনিটি সেন্টার, নয়টি সিটি করপোরেশনের একটিতেও খেলার মাঠ নাই, আমাদের ছেলেরা স্কুল থেকে এসে হয় রাস্তায় ঘুরছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে ৷ নামে শহর আসলে শহরের কোন সুবিধা পাই না। আমরা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়েছি, না দিলে ফাইন আর জেল হয়েছে কিন্তু আমরা না পেয়েছি গ্যাস, বিদ্যুৎ না পেয়েছি পানি।
আমাদের ৯০ ভাগ এলাকা এখনো ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আসেনি। সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় বিগত ১৮ বছরে কোন উন্নয়নই হয়নি।
আগামীতে এলাকার মানুষ সকল সুবিধা পাবে উল্লেখ করেন, বিগত ১৯৯১-২০০৬ সালে যেমন এই এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ এর পৃষ্ঠপোষকতায় শহরে রূপান্তর হয় তেমন আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা আমাদের সকল সমস্যা একসাথে খুজে বের করে সমাধান করবো। আমাদের সন্তানদের জন্য জায়গা খুজে খেলার মাঠ ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করণে সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করবো। আমাদের মসজিদ, মন্দির এবং সাংস্কৃতি চর্চার জন্য জায়গা বরাদ্দ ও নির্মাণের জন্য কাজ করতে হবে। আপনারা ডাক দেওয়া মাত্রই আমি হাজির হব।
বিশেষ প্রার্থনায় সভাপতিত্ব করবেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কদমতলী থানার সভাপতি স্বপন দাস।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







