• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি    ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ এ.এম.
হিমালয়ের হিমেল বাতাসে কুয়াশাচ্ছন্ন পঞ্চগড়-তীব্র শীতে দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ-ছবি-ভিওডি বাংলা

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিন ধরেই হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে অন্যতম সর্বনিম্ন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে সকাল ৯টায় তা আরও কমে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে দাঁড়ায়। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে শীতের তীব্রতা একটুও কমেনি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, উত্তর হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে পঞ্চগড় অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে দিনের বেলাতেও প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকায় সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষজন। কাজের অভাবে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষজন বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় মানুষ খড়কুটো, পুরোনো কাপড় কিংবা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণের পাশাপাশি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পেশিশক্তি নির্ভর রাজনীতির বিস্তার লাভ করেছে
পেশিশক্তি নির্ভর রাজনীতির বিস্তার লাভ করেছে
যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট তীব্র, বন্ধ একাধিক নৌরুট
সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর নাব্যতা সংকট তীব্র, বন্ধ একাধিক নৌরুট
শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতকরণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
কালিয়া শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতকরণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত