• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৬ পি.এম.
রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গাজী আতাউর রহমান ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যোগ দিচ্ছে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে দলটির নেতৃত্ব। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি এককভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। ইসলামের প্রতি জনতার আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। আমরা যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি, এখান থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এ জন্য কাল আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে, যেখানে আমরাও ছিলাম। এখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, আসন বণ্টন ঘোষণা করা হয়।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের যে পথচলা, বিশেষ করে পাঁচ অগস্টের পর থেকে ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে একসঙ্গে করার যে চেষ্টা চলছিল, শেষ পর্যায়ে এসে সে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ জন্য আমরা ইসলামের একটি বাক্সকে রক্ষা করার চিন্তা করেছি। আমরা জানি, সামনে আমাদের পথচলা মসৃণ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না, আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। ইসলামকে আমরা আগে রাখি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রশ্নে, ইসলামের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি। সে জন্য আমরা আজ ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল, যার মধ্যে দুটি আসন বাতিল হয়। বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়েছি, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও  মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। 

কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় শক্তি ছিল, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা আদর্শিকভাবে নৈতিকভাবে কারও চেয়ে দুর্বল নই।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেব, দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা দেখলাম, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এতে আমরা স্পষ্ট হয়ে গেলাম, আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি, সেই লক্ষ্য অর্জিত হবে না। এখন যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন যদি তারা ইসলামের আদর্শ থেকে ভিন্ন দিকে চলে যায়, তাদের ইসলামের আইনের প্রতি যদি আস্থা না থাকে, তাহলে আমরা যে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি, এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জন্মের পর থেকে একটাই মৌলিক স্লোগান ছিল, আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকে শাসন চাই। এখন যখন যাওয়ার পথ-পরিবেশ তৈরি হলো, তখন তারা আল্লাহর আইন থেকে সরে গেলেন।

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা হতে চাই না। এই প্রচলিত আইনে বিগত ৫৪ বছর দেশ পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এই আইনে রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হয়েছে। প্রচলিত আইন বৈষম্য তৈরি করেছে। অন্যায়-অবিচারের মূল কারণ হলো প্রচলিত আইন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি, প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে ইসলামের আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামী আইন সবার জন্য সমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। আমরা সেই আন্দোলন প্রতিষ্ঠার জন্যই আন্দোলন করি। এখন আমরা যদি শেষ মুহূর্তে দেখি, প্রধান যে আমাদের সহযোগী শক্তি তারা আল্লাহর আইনের পথে চলবেন না, প্রচলিত আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন না আমরা তাদের সঙ্গে সহযোগী দল হওয়ার জন্য আর প্রস্তুত নই।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভা আজ
খালেদা জিয়া স্মরণে নাগরিক সমাজের শোকসভা আজ
ঢাকাসহ ২৭ আসনে লড়বে এনসিপি
ঢাকাসহ ২৭ আসনে লড়বে এনসিপি
অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশের সমস্যার সমাধান করব
ইশরাক হোসেন অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পরিবেশের সমস্যার সমাধান করব