মাস্কের এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মামলা

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার এক সন্তানের মা, ডানপন্থী লেখক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক্সএআইয়ের এআই টুল “গ্রোগ” তার সম্মতি ছাড়া অশ্লীল, অপমানজনক ও যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে দিয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, তৈরি করা ডিপফেক ছবিগুলোর মধ্যে এমনও রয়েছে যেখানে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেন, গ্রোগ ছবিগুলো বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তার নাম ব্যবহার করে ডজনেরও বেশি যৌন হয়রানিমূলক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এক্সএআই বুধবার জানিয়েছে, যেখানে এটি আইনত অবৈধ, সেখানে গ্রোগ ও এক্স প্ল্যাটফর্মে বাস্তব মানুষের বিকিনি, অন্তর্বাস বা অনুরূপ পোশাকের ছবি তৈরি করার সুবিধা জিওব্লক করা হবে।
অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার বর্তমানে মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কিত নন। তাদের একটি পুত্রসন্তান ২০২৪ সালে জন্ম নিয়েছে। মাস্কের আরও তিন নারীর সঙ্গে মোট ১৩ সন্তান রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন ভুক্তভোগীদের অধিকার বিষয়ক আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ। তিনি বলেন, “গ্রোগের মাধ্যমে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারকে হয়রানি করা হয়েছে। এটি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এবং কোনোভাবেই নিরাপদ পণ্য নয়।”
মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়, এক্স কর্তৃপক্ষ সেন্ট ক্লেয়ারকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেছে। তার এক্স অ্যাকাউন্টের আয়ের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং তাকে নিয়ে আরও বেশি ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়েছে। এসব ছবিতে যৌন ভঙ্গিতে উপস্থাপন, আংশিক নগ্নতা এবং শিশুদের অবৈধ ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একটি ছবিতে তাকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী হিসেবে স্ট্রিং বিকিনি পরানো হয়েছে, অন্য ছবিতে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে ‘ফ্লস’ বিকিনি পরানোর অনুরোধেও গ্রোগ সাড়া দিয়েছে। এছাড়া গ্রোগ তার শরীরে কৃত্রিম ট্যাটু যোগ করেছে, যার একটি ছিল ‘ইলন’স হোর’, এবং একটি ছবিতে তাকে স্বস্তিকা চিহ্নযুক্ত বিকিনি পরানো হয়েছে।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, সেন্ট ক্লেয়ার সম্মতিহীন ও বাস্তবসম্মত যৌন ডিপফেক তৈরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং এক্সএআই সরাসরি দায়ী।
অন্যদিকে মাস্ক এক্সে জানিয়েছিলেন, গ্রোগ ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টের দায় ব্যবহারকারীর। এক্সএআই জানিয়েছে, শিশু যৌন শোষণ, সম্মতিহীন নগ্নতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন কনটেন্টের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি রয়েছে।
এক্সএআই পাল্টা মামলা করে দাবি করেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেন্ট ক্লেয়ারকে নিউইয়র্কের পরিবর্তে টেক্সাসে মামলা করতে হবে।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, “আমি ভীত ও গভীরভাবে চিন্তিত। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি।” তিনি আরও বলেন, মাস্ক শিশুদের নিয়ে একটি লেজিয়ন গড়তে চান এমন মন্তব্যের পর থেকে তার প্রতি কিছু সমর্থকের বিদ্বেষ বেড়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







