ট্রাম্প- রদ্রিগেজের ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় নেতা ফোনালাপকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন।
চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। এর পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই ঘটনার পরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ফোনালাপে তেল, খনিজ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে স্থিতিশীল ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে কাজ করছে।
রদ্রিগেজও ফোনালাপকে ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ সময়ের আলোচনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা উভয় দেশের স্বার্থে একটি দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেছি।” তিনি সম্প্রতি মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছিলেন এবং তাকে ফেরাতে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প ফোনালাপ নিয়ে মন্তব্যে বলেছেন, রদ্রিগেজ একজন দুর্দান্ত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই আলোচনায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দুই দেশের নেতাদের এ আলোচনার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মোড় আসার আশা করা হচ্ছে।
একই সময়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম চালানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তেলের ক্রেতা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আরও তেল বিক্রির পরিকল্পনা আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে চলছে।
সিএনএন ও টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানিয়েছেন, “মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাম্প একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এই চুক্তি উভয় দেশের জনগণের উপকারে আসবে।”
গত ৩ জানুয়ারি ভোরে মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নেয়। বর্তমানে তারা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি।
এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র উত্তেজনা বিরাম পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য, ভেনেজুয়েলার বিপুল কিন্তু কম উৎপাদনশীল তেল মজুত ব্যবহার করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফোনালাপ ও তেল চুক্তি মার্কিন কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত করছে। এটি শুধুমাত্র তেলের বাজারকে প্রভাবিত করবে না, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কেও নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পারে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প-রদ্রিগেজ আলোচনার মাধ্যমে যে দ্বিপক্ষীয় এজেন্ডা তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমঝোতার পথ সুগম করতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







