• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গাজা নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ‘মাস্টার প্ল্যান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫২ এ.এম.
ডোনাল্ড ট্রাম্প ছবি: বিবিসি

গাজা উপত্যকার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি নতুন কাঠামো ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই কাঠামোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি বোর্ড)। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, গাজায় স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠনের জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগের অংশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গঠিত এই বোর্ড গাজার প্রশাসনিক তদারকি, পুনর্গঠন প্রকল্প এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করবে।

বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ারকে। এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক হোয়াইট হাউজ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান মার্ক রোয়ান এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার ভেতরে বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বুলগেরিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলে ম্লাদেনভ। তিনি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নবগঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

এই স্থানীয় কমিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)। কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথ। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর রাখতে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজায় একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই বহুজাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফারস। বাহিনীটির দায়িত্ব হবে গাজার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুনর্গঠন প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজার পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন এবং হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণই প্রধান লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, হামাস যদি নির্ধারিত শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণতি হবে কঠোর ও ভয়াবহ।

গত বছরের অক্টোবর থেকে এই শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার দাবি করা হলেও গাজার পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন ইসরায়েলি সেনা।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যগত কারণে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
স্বাস্থ্যগত কারণে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী
ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন মাচাদো
ট্রাম্পকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিলেন মাচাদো
ক্ষমতায় গেলে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা রেজা পাহলভির
ক্ষমতায় গেলে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা রেজা পাহলভির