• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বছর আসে যায়, বাবা তো আর আসে না

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৪ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের কান্না, আর্তনাদ ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মায়ের ডাক ও আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত মতবিনিময়ে শোকাবহ ও আর্তনাদের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হওয়া পারভেজের কন্যা ঋদি। বাবার অপেক্ষা থাকা এ কন্যা বলেন, ‌এ বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর একটা বছরের বেশি পার হয়ে গেল কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।

ঋদি বলে, আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন থেকে আম্মুর কোলে চড়ে এখানে আসি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন বাবার সঙ্গে স্কুলে যাবো কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। 

বাবার ফিরে আসার আকুতি জানিয়ে হৃধি প্রশ্ন রাখে, আমার এ স্বপ্নটা কি আদৌ পূরণ হবে? আমার ভাই কি বাবার মুখটা দেখতে পারবে? এ স্বাধীন দেশে কি বিচার হবে না? আমাদের বাবারা কোথায়... আমাদের বাবাদের কেন গুম করা হয়েছিল?

গুম কমিশনের উদ্দেশে সে বলে, গুম কমিশন বলে, ধরে নিন ওরা গুম... ওরা মৃত। কেন এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোনো অপরাধ না। দল সবাই করে। এর জন্য এটা কেমন বিচার এ বাংলাদেশে?

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে বাবাকে খুঁজে দেয়ার আকুতি জানায় হৃধি। সে বলে, বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবারা আসে না। আমরা এ একটা বছরের বেশি হয়ে গেল ৫ই আগস্টের পর, কিন্তু আমরা একজনকেও ফেরত পেলাম না।

সে আরও বলে, আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি যে আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এ বাংলাদেশের মাটিতে এ গুমের বিচার করবেন।

সমবয়সীদের যখন হাঁটা শেখায় বাবারা, তখন নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় ৩ বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিম।

মাত্র ২ মাস বয়সে সাফার বাবা নিখোঁজ হন। তার আক্ষেপ কখনো বাবাই ডাকতে না পারার। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও।

কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, একযুগ ধরে বাবার জন্য সবাই অপেক্ষা করছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে দেখতে পারিনি। অনেক জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো খোঁজ পাইনি।

মিম, সাফা, ঋদির মতো গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গুমের শিকার হয়ে স্বজন হারিয়েছে অসংখ্য পরিবার। কেউ বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই আবার কেউ বা হারিয়েছেন স্বামীকে। এখন শুধু সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা। এসময়, ভুক্তভোগীর স্বজনদের কান্না আর আর্তনাদ শুনে কাঁদেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।
 
দেড় যুগরেরও বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটানো বিএনপির চেয়ারম্যান স্বজন হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে সহমর্মিতা জানান।

গুম-খুনের সে বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে উল্লেখ বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ গণতেন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের বাবা হঠাৎ করে দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় রয়ছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে দেখা দিবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য বলেন, গুম প্রতিরোধে এমন আইন করবেন যেনো ভবিষ্যতে এ অপরাধ করার সাহস কারো না হয়।

ভিওডি বাংলা/ এমএম

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে অনন্তকাল মনে রাখবে
দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে অনন্তকাল মনে রাখবে
খালেদা জিয়া পরমতসহিষ্ণু ছিলেন : আসিফ নজরুল
খালেদা জিয়া পরমতসহিষ্ণু ছিলেন : আসিফ নজরুল
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র তদন্ত হওয়া প্রয়োজন
ডা. এফএম সাত্তার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র তদন্ত হওয়া প্রয়োজন