২ লাখ ২১ হাজার কেজি সোনা উত্তোলন করল সৌদি আরব

সৌদি আরব নতুন করে চারটি খনি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উত্তোলন করে বৈশ্বিক খনিজ খাতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় খনন কোম্পানি মা’আদেন জানিয়েছে, সর্বশেষ উত্তোলন কার্যক্রমে এসব খনি থেকে মোট ৭৮ লাখ আউন্স সোনা পাওয়া গেছে, যা ওজনে প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার কেজির সমান। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এই সাফল্যের ফলে সৌদি আরবের খনিজ সম্পদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বর্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মা’আদেনের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গঠনে এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মা’আদেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে বছরে ৯০ লাখ আউন্স সোনা উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বার্ষিক হিসাব, বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রযুক্তিগত বিবেচনায় চূড়ান্ত লক্ষ্য কিছুটা কমানো হয়। তবুও নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা উত্তোলন সম্ভব হয়েছে, যা কোম্পানির জন্য একটি বড় অর্জন।
উত্তোলন করা সোনার বড় অংশ এসেছে সৌদি আরবের চারটি খনি এলাকা থেকে। এসব খনি হলো—মানসুরাহ মাসসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন খনি ওয়াদি আল জাও। এর মধ্যে মানসুরাহ মাসসারাহ খনি থেকে সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া গেছে, প্রায় ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম খনি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স সোনা। অপরদিকে নতুন খনি ওয়াদি আল জাও থেকে প্রথমবারের মতো প্রায় ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স সোনা উত্তোলন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও উৎপাদনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মা’আদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বব উইল্ট বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সোনা অনুসন্ধান ও খনি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্পদ বৃদ্ধি ও নগদ অর্থ প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল সোনা উত্তোলন সৌদি আরবের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারেও এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা







