• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গ্রিনল্যান্ড দখলে এবার ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ ব্যবহারের হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৫ পি.এম.
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার আগ্রাসী কূটনীতি আরও বাড়িয়ে তুলেছেন। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল ও ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া’ নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে। এরই মধ্যে তিনি ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্যও জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আয়োজিত এক বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যে কোনও দেশ গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হলে, তার ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। যারা বাধা দিবে, তাদের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করতে পারি।”

ট্রাম্প তার বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার ঘটনা উল্লেখ করে ডেনমার্ককে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে শক্তির পথেও যেতে পারি। রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, ডেনমার্ক কিছুই করতে পারবে না। তবে আমাদের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব।”

ডেনমার্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে পাল্টা কৌশল নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো’র বেশ কয়েকটি দেশ ডেনমার্কের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সামরিক সদস্যরা সেখানে পৌঁছেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি ফক্স নিউজকে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া উচিত, এবং শেষ পর্যন্ত তা হবে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। ট্রাম্প নিজেও আগামী মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ হলে তা “রাজনৈতিক বিপর্যয়” সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। পোল্যান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটি ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনে অংশ নেবে না। এ কারণে ন্যাটোর ভবিষ্যত নিয়েও নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক হুমকি ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত গুরুত্ব নিশ্চিত করতে চাইছেন।

এদিকে, ট্রাম্পের আগ্রাসী নীতি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ন্যাটো’র সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামরিক উপস্থিতি ও কূটনৈতিক আলোচনা দিয়ে তারা চেষ্টা করছে উত্তেজনা কমানোর।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ অর্থাৎ শুল্ক আরোপের হুমকি তার মূল কৌশল হতে পারে। তবে কোন দেশে কতটা শুল্ক আরোপ করা হবে বা আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে তা বাস্তবায়ন কেমন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মোটকথা, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব, ইউরোপীয় দেশগুলোকে সজাগ করেছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে সংঘাতের সম্ভাবনা এখন বাড়ছে। আর ট্রাম্পের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
দাবানলে জ্বলছে ভারতের ঝাড়খণ্ড
দাবানলে জ্বলছে ভারতের ঝাড়খণ্ড
ট্রাম্প- রদ্রিগেজের ফোনালাপ
ট্রাম্প- রদ্রিগেজের ফোনালাপ
মাস্কের এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মামলা
মাস্কের এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের মামলা