রবিউল আলম
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণেই রাজনীতি হবে জবাবদিহিমূলক

ঢাকা–১০ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, রাজনীতিতে রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিকদের সরাসরি ও সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেই রাজনীতিবিদদের দায়বদ্ধতা বাড়ে এবং জনগণ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি হয়। এই সেতুবন্ধনই উন্নয়নের পূর্বশর্ত এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর হাজারিবাগে ষড়কুঞ্জ এলাকাবাসীর আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রবিউল বলেন, আমাদের দেশে সরকার ছিল, রাজনীতি ছিল, নেতা ছিল এবং জনগণও ছিল কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। কারণ জনগণ ও রাজনীতির মধ্যে কার্যকর মতবিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল না। এই ঘাটতি দূর করতে হলে নাগরিকদের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে, মতামত দিতে হবে, সমস্যা চিহ্নিত করে উপস্থাপন করতে হবে। তাহলেই রাজনীতি বিশুদ্ধ হবে, জবাবদিহিমূলক হবে এবং জনবান্ধব হয়ে উঠবে।
নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশে নারীদের উপস্থিতি প্রমাণ করে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানার অর্ধেকই নারীদের হাতে। ভোটাধিকার, অধিকার এবং রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান অপরিসীম। নারীরা এগিয়ে এলে রাজনীতি আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল হয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন কিংবা কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দেবে না। বিএনপির রাজনীতি হবে সেবার রাজনীতি। যারা ত্যাগী নেতা-কর্মী, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত হয়েছেন, তারা সম্মান পাবেন; কিন্তু কেউ অনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি প্রভাব বিস্তার করে নাগরিকদের হয়রানি করে, তবে সরাসরি আমাকে জানাবেন। প্রয়োজনে একটি এসএমএসই যথেষ্ট। এই এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না এ দায়িত্ব আমি নিজেই নিলাম।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, বিদ্যমান গ্যাস লাইনের সংস্কার ও মেরামতের জন্য কোনো প্রকল্প বা বাজেট নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে। অবকাঠামো মোটামুটি ভালো হলেও ক্লিনিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করা হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির হস্তক্ষেপ বেড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে একটি অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম। সেই যোগ্যতা একমাত্র বিএনপিরই আছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে এই এলাকায় এমন এমপি ছিল যাদের আপনাদের ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ফলে আপনাদের সমস্যার সমাধানের দায়বদ্ধতাও তারা অনুভব করেননি। আমরা আর বঞ্চিত থাকতে চাই না। আমরা আমাদের অধিকার ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, আমি ৩৩ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গণতন্ত্র, জবাবদিহিমূলক সরকার ও জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য সংগ্রাম করেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা যদি আপনাদের রায়ে আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে আমি আপনাদের প্রতি সেই দায়িত্ব অটুট নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব ইনশাল্লাহ।
তিনি সবাইকে আগামী নির্বাচনে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে পাশে রাখাই দেশের স্বার্থে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
এ সময় এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







