• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তানভীর আহমেদ

সন্তান হিসাবে সবাইকে বেগম জিয়ার মতো দেশকে ভালোবাসা উচিৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম.
বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দোয়া মাহফিল। ছবি: ভিওডি বাংলা

ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলছেন, বেগম খালো জিয়া দেশকে ভালোবাসতেন সবকিছুর উর্ধ্বে গিয়ে। আমাদের সবার উচিৎ দেশনেত্রী, গণতন্ত্রের মা আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসাবে তার দেখনো পথে দেশকে ভালোবাসা।

শনিবার (১৭ই জানুয়ারি) রাতে শ্যামপুর থানাধীন ৫১ নং ওয়ার্ড মীরহাজারিবাগ বড়বাড়ি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দোয়া মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশকে লালন করতেন নিজের সন্তানের মতো। তিনি ছিলেন এদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আল্লাহ এই মহীয়সী নারীকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন আশীর্বাদ হিসাবে। বিশেষ করে এই এলাকা তথা ঢাকা-৪ এর মানুষের জন্য তিনি ছিলেন আশার আলো। এই শ্যামপুর, কদমতলীর মানুষ তার অবদান কখনো ভুলতে পারবে না। তিনি আমাদের এলাকার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন। তার কারণ ও আপনারা। ফ্যাসিবাদ বিরোধী কোন আন্দোলনের ডাক দিলে সবর আগে ছুটে যেতেন আপনারা।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ইশারায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপর কত অত্যাচার হয়েছিল, বিনা অপরাধে তাকে বছরের পর বছর রাখা হয় কারাগারে, কারাগারে আসুখ বাড়লে দেওয়া হতো না সুচিকিৎসা। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও তাকে কার্যালয়ে ৬ মাস অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, বড় সন্তান আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলেও আসতে দেওয়া হয়নি তাকে। স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত ঘর থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করা হয়েছিল। তবুও তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চায়নি। সবকিছু হারিয়েও নিরবে কাজ করেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। 

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় মানুষের পাশে ছিলেন এবং আমাদের ও থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এই মানুষটির জন্য আজ দোয়া ও আশীর্বাদ করছে সমগ্র দেশ কারণ তিনি মানুষকে ধর্ম দিয়ে কাউকে বিবেচনা করেননি। তিনি মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখেছেন। ভালোবেসেন ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে। আমি তার দেখানো পথে অনুসরণ করেই বলতে চাই বাংলাদেশকে নতুন করে বিনির্মান করতে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে হবে। সবার আগে এলাকার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা জরুরি। 

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলেরর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকার কমিশনার তখন এখানে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে ত্রাসের রাজত্ব করেছিলো, সিসিটিভি দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, কারো স্বাধীনতা রাখেনি। সিদ্ধান্ত যাই আসতো না কেন তা নিয়ন্ত্রণ করতো গুটিকয়েক ক্ষমতাসীন ব্যক্তি। গুন্ডাপান্ডা দিয়ে মাদক ব্যাবসা করাত, 

মাদকের আস্তানা গড়ে তুলছিলো এই এলাকা।

নির্বাচনী এলাকার মানুষের দুঃখ দূর্দশার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ৯০ ভাগ এলাকা এখনো ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আসেনি, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নাই, খেলার মাঠ নাই, সরকারি হাসপাতাল নাই, গ্যাস বিল দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করছি, বিদ্যুৎ না থাকলে কিনতে হচ্ছে এল পি জি। আমাদের নাই মানে কিছুই নাই। সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় বিগত ১৮ বছরে কোন উন্নয়নই হয়নি। আপনারা হিসাব করবেন বিএনপি আমলে এই এলাকায় কতগুলো ইন্ডাস্ট্রি চালু ছিলো আর দীর্ঘ ১৮ বছর পরে কতগুলো চালু আছে। অতিলোভী কিছু লোক তাদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে তারা আমাদের কথা চিন্তা করেনি। এলাকর সকল ব্যাবসা তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতো। সাধারণ মানুষ থাকতো তার অধীনে। 

আগামীর রাষ্ট্র বিনির্মানে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, সবাই মিলে এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তার জন্য যা করা প্রয়োজন আমাদের করতে হবে। আমাদের এলাকার এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে। যেখানে সিদ্ধান্ত আসবে আপনাদের থেকে। আপনারা একটা জায়গা তৈরি করবেন, উন্মুক্ত আলোচনা করবেন, তাহলে সকল সমস্যা সামনে চলে আসবে, আপনাদের হাতেই থাকবে ক্ষমতা। আমাের এলাকার সবার আত্মস্মান ফেরত দিতে হবে। মুরুব্বিদের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করতে হবে। সন্ত্রাসীদের আস্তানা ভেঙে দিতে হবে। সেই বাংলাদেশ এখন আর নাই, যেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে না। অপরাধ করলে সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে সে আমি হলেও। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে স্বৈরাচার তৈরি হবে। যেই অন্যায় করুক প্রতিবাদ করতে হবে। আমি এই এলাকায় জন্মেছি, দোয়া করি আল্লাহ পাক এই এলাকাতেই যেন মৃত্যু দেয়। তার আগে ঢাকা-৪ কে দেশবাসীর কাছে মডেল বানাতে চাই।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণেই রাজনীতি হবে জবাবদিহিমূলক
রবিউল আলম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণেই রাজনীতি হবে জবাবদিহিমূলক
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কমিটি ঘোষণা
নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কমিটি ঘোষণা
তারেক রহমানকে সেই জাতীয় পতাকা উপহার দেন মুত্তাকিন
তারেক রহমানকে সেই জাতীয় পতাকা উপহার দেন মুত্তাকিন