• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতায় শুল্ক আরোপ, ক্ষুব্ধ ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৬ পি.এম.
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় ইউরোপীয় দেশগুলোতে ক্ষোভ-ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডও রয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “ন্যাটো মিত্রদের যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করার কারণে তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্পূর্ণ ভুল।” ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, কোনও সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

এর প্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। যদিও গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা কম, প্রাকৃতিক সম্পদে এটি সমৃদ্ধ এবং উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক নৌযান নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “সহজ” অথবা “কঠিন পথে” গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে। এই হুমকির পর ইউরোপের দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর যৌথ দায়িত্ব হওয়া উচিত। ইতোমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য ‘রিকনেসান্স মিশনের’ অংশ হিসেবে সীমিত সংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, “আমরা ব্ল্যাকমেইলের কাছে মাথা নত করব না।” তিনি জানান, সুইডেন ইইউ, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়া নির্ধারণে আলোচনা চালাচ্ছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা মন্তব্য করেছেন, “ইইউ সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় দৃঢ় থাকবে।” ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, শুল্ক আরোপের হুমকি তাদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত’ ছিল।

এদিকে, জার্মান এমইপি মানফ্রেড ওয়েবার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপ গত বছর আলোচিত ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইইউ-এর সব পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে এবং কিছু মার্কিন পণ্যে শূন্য শতাংশ শুল্ক সুবিধা দেবে।

ওয়েবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইপিপি এই চুক্তির পক্ষে থাকলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির কারণে অনুমোদন এখন সম্ভব নয়। মার্কিন পণ্যের ওপর শূন্য শুল্ক স্থগিত রাখতে হবে।”

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদ-এর কারণে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রয়োগ ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরান বিক্ষোভে হাজারো নিহতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দায়ী
খামেনি ইরান বিক্ষোভে হাজারো নিহতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল দায়ী
জেন-জি প্রজন্ম বিজেপির উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী: নরেন্দ্র মোদি
জেন-জি প্রজন্ম বিজেপির উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী: নরেন্দ্র মোদি
গ্রিনল্যান্ড দখলে এবার ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ ব্যবহারের হুমকি ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড দখলে এবার ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ ব্যবহারের হুমকি ট্রাম্পের