৫০ বছর পর নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে

প্রথমবারের মতো ৫০ বছরের বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথে মনুষ্যবাহী নভোযান পাঠাতে যাচ্ছে নাসা। আর্টেমিস–২ মিশনের রকেট শনিবার (১৭ জানুয়ারি) উৎক্ষেপণ প্যাডে স্থাপন করা হয়েছে। এটি নাসার চন্দ্র অভিযানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথম।
উৎক্ষেপণ প্যাডে রকেটটির চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মহড়া চলবে। সবকিছু সঠিক থাকলে নভোযানটিকে উৎক্ষেপণের অনুমতি দেওয়া হবে। আর্টেমিস-২ মিশনে চারজন নভোচারী অংশ নেবেন। তারা চাঁদের চারপাশে ১০ দিনের ভ্রমণ করবেন, যদিও এ মিশনে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করা হবে না। আগামী আর্টেমিস-৩ অভিযানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হবে। আর্টেমিস-৩ অভিযান ২০২৭ সালের আগে হবে না।
মিশনে অংশ নেওয়া নভোচারীরা হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হানসেন। তারা রকেট উৎক্ষেপণ প্যাডে স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন।
রকেটটি ৯৮ মিটার উঁচু এবং এটি ‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার’ নামের একটি বিশাল যন্ত্রের মাধ্যমে ভেহিকেল অ্যাসেম্বলি ভবন থেকে উৎক্ষেপণকেন্দ্রে আনা হয়েছে। যন্ত্রটি ধীরে ধীরে রকেটকে ৪ মাইল (৬.৫ কিলোমিটার) দূরত্বে নিয়ে যায়, যেখানে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ০.৮২ মাইল ছিল। সরাসরি সম্প্রচারে ধীরগতির এই দৃশ্য ধরা পড়েছে। রকেটটি উৎক্ষেপণ প্যাডে পৌঁছাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লেগেছে।
নাসা জানিয়েছে, রকেটটি মহড়ার জন্য জ্বালানি ভরে প্রস্তুত করা হবে। উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখের মধ্যে সবচেয়ে কাছের সময় ৬ ফেব্রুয়ারি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এবং মার্চ-এপ্রিলেও রকেট উৎক্ষেপণের জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই অ্যাপোলো-১১ মিশনে প্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেছিল। এর পর নাসা মোট ৬টি মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযান সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে শেষটি ছিল ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭। আর্টেমিস-২ হবে সেই দীর্ঘ বিরতির পর নাসার প্রথম মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযানের নতুন ধাপ।
নাসার কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলীরা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ মিশন সফল হলে এটি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী চন্দ্রভিত্তিক অভিযান ও স্থায়ী চাঁদ আবাস স্থাপনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। মিশনের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি, স্যুট, নভোযান এবং কৌশল পরীক্ষা করা হবে।
রকেট উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুতিমূলক ধাপগুলোতে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে চাঁদ পর্যন্ত যাত্রার পরিকল্পনা ও মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। আর্টেমিস-২ মিশন ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান ও মানুষের দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি তৈরি করবে।
নাসার কর্মকর্তারা বলেছেন, এই অভিযান শুধু একটি প্রযুক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের উপস্থিতি পুনঃস্থাপনের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হবে। নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
উৎক্ষেপণের সময়সূচি ঠিক থাকলে চন্দ্রপৃষ্ঠে মনুষ্যবাহী মিশনের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হতে চলেছে। আর্টেমিস-২ অভিযান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদে মানববসতি গড়ার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভিওডি বাংলা/জা







