• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তাজুলের সতর্কবার্তাকে ‘হুমকি’ মনে করছেন রাজনীতিবিদেরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৭ পি.এম.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। ছবি-সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করতে পারে। তাই এই শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংলাপটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের পর সংলাপে উপস্থিত কয়েকজন বক্তা তার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এই বক্তব্যকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান।

সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি মব সহিংসতার প্রসঙ্গ উঠে আসে।

সংলাপের শুরুতে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, বর্তমানে আইনের শাসনের বদলে ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চলছে এবং তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতীকী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে বা পরে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে তার প্রতিক্রিয়া অনিবার্য। তিনি অভিযোগ করেন, মবকে সুযোগ দেওয়ার ফলেই এখন তারা সরকার, নির্বাচন কমিশন এমনকি রাষ্ট্রকেও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এই বক্তব্যগুলোর জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের আন্দোলনের সঙ্গে ছিনতাই বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো ঘটনাকে এক করে দেখা ঠিক নয়। তার মতে, বিপ্লবের অর্জনের সঙ্গে ‘মব’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হলে তা সংযত হওয়া উচিত।

এ সময় রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসনের কথা বলেও যদি মবকে উসকানি দেওয়া হয়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, আগে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি ‘মব নেই, তারা চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী’ বলে যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তার পরপরই বিভিন্ন উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। এখন আবার মবের পক্ষে বক্তব্য আসায় ভবিষ্যতে নতুন ধরনের অঘটনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ/এমপি

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারে আইনি বাধা নেই
গণভোট সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারে আইনি বাধা নেই
‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা
‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা
বছর আসে যায়, বাবা তো আর আসে না
বছর আসে যায়, বাবা তো আর আসে না