বিদ্রোহী প্রার্থী সৈকত থাকায় ধানের শীষে জয় অনিশ্চিত

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে গোলাম আজম সৈকতের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী মাঠে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এতে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীর ফলাফল নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিএনপির পদধারী একাংশের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকতের পক্ষে কাজ করছেন। ফলে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, গোলাম আজম সৈকত নির্বাচনের মাঠে না থাকলে ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে তারা মনে করতেন।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা সেই হিসাবকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্যোগ নিলে এখনো পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব হতে পারে।
রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে গোলাম আজম সৈকত নিজের অবস্থান জোরদার করার চেষ্টা করছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত বলেন, “আমি কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের পক্ষে নির্বাচন করছি। রাজাপুর–কাঁঠালিয়ার মানুষ পরিবর্তন চায়। যারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, জনগণ তাদের গ্রহণ করবে না। সেই প্রত্যাশা থেকেই আমি নির্বাচনে এসেছি।”
এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন হয়নি। কার কী দায়িত্ব থাকবে, তা স্পষ্ট নয়। আমরা দলের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।”
বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, “ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রফিকুল ইসলাম জামাল কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। দলের ভেতরে যদি কোনো মান-অভিমান থাকে, তা ভুলে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে কিছু মনোমালিন্য তৈরি হয়েছে। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে। আশা করি সবাই অতীত ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।”
তবে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব যদি কমানো না যায়, তাহলে ধানের শীষের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা না হলে এই অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সুবিধা নিতে পারেন বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভিওডি বাংলা-মো. মাহিন খান/জা






