• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫ এ.এম.
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-ফাইল ছবি

স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি এই দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশের ইতিহাসে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে জিয়াউর রহমান শুধু একজন সফল সামরিক কর্মকর্তা নন, বরং প্রজ্ঞাবান রাষ্ট্রনায়ক ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের পিতা ছিলেন- বিশিষ্ট রসায়নবিদ মনসুর রহমান এবং মাতা জাহানারা খাতুন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবে তার ডাকনাম ছিল কমল। বগুড়া ও কলকাতায় শৈশব ও কৈশোর কাটানোর পর পিতার কর্মস্থল করাচিতে চলে যান তিনি। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন।

একজন পেশাদার সৈনিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হলেও দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি বারবার জাতির সামনে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে তিনি বীরত্বের স্বাক্ষর রাখেন। পরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক। যুদ্ধ শেষে তিনি আবার পেশাদার সৈনিক জীবনে ফিরে যান। তবে সময়ের প্রয়োজনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বিকশিত হয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন।

জিয়াউর রহমান প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তার গড়া এই রাজনৈতিক দল আজও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্বের ফলে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমান আজও মানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তার শাসনামলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় লাভ করে। জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। রুহুল কবির রিজভী জানান, এই কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পালন করা হবে।

কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ২০ জানুয়ারি সকাল ১১টায় শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এসব কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিএনপি। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শহীদ জিয়ার দর্শন ও দিকনির্দেশনা আজও দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে ইসি: মির্জা ফখরুল
পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে ইসি: মির্জা ফখরুল
ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী জিয়াউর রহমান
ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী জিয়াউর রহমান
ভোটকেন্দ্রে যাওয়াই গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ: ইশরাক হোসেন
ভোটকেন্দ্রে যাওয়াই গণতন্ত্র রক্ষার একমাত্র পথ: ইশরাক হোসেন