• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তাজুল ইসলাম

জাতিসত্তা রক্ষায় গুমের বিচার অপরিহার্য

আদালত প্রতিবেদক    ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৪ পি.এম.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে গুমের বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)–এ গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ শুরু হয়েছে—তা হলো গুমের বিচার। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল। সে সময়ে যেকোনো মানুষকে গুম করে দেওয়া যেত এবং এসব কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করা হলেও কোনো জবাবদিহি ছিল না।

তিনি বলেন, গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে এই বিচার অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে যদি এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে গুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসবে। দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ কিংবা বাকস্বাধীনতার দাবিতে যাঁরা গুমের শিকার হয়েছেন, বিচার না হলে তাঁদের আত্মা চিরদিন কাঁদবে। এ কারণেই এই বিচার জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে অপরিহার্য—এ কথা সূচনা বক্তব্যে আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের আট বছর পর্যন্ত আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। গুমের এই মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এর মাধ্যমে জাতির কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যে যত বড় কর্মকর্তা বা ইউনিফর্মধারী হোক না কেন, অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সাক্ষীর জবানবন্দি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিভাবে তুলে নেওয়া হতো, প্রথমে অস্বীকার করা হতো কিংবা চোখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হতো—এসব ভয়াবহ বর্ণনা সাক্ষ্যগ্রহণে উঠে আসছে। গোপন বন্দিশালায় দিন ও রাতের পার্থক্য বোঝা যেত না। কী ধরনের খাবার দেওয়া হতো, অসুস্থ হলে কেমন চিকিৎসা মিলত কিংবা ওষুধে কী লেখা থাকত—এসব তথ্যও সাক্ষী আদালতে তুলে ধরছেন।

ভিওডি বাংলা/ এমএস/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন
ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন
জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্ট রিট
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্ট রিট
গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিচার শুরু
গুম-খুনের মামলায় জিয়াউলের বিচার শুরু