রবিউল আলম
জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, রাজনীতি হবে সেবার জন্য

রাজনীতির মূল দর্শন হওয়া উচিত জনগণের সেবা, ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব নয় এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
তিনি বলেন, জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই রাজনীতি। যে রাজনীতি জনগণের স্বার্থ সার্ভ করতে পারে না, সেই রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার কারও নেই।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে জজগলি এলাকাবাসীর আয়োজনে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, আমাদের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিকতা গড়ে উঠেছে যেখানে নেতা মানেই দাপট, কর্তৃত্ব ও ভয়। এই সংস্কৃতি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, আমি আজ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আলাদা করে এড্রেস করিনি। কারণ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সেবক হিসেবে আমাদের এড্রেস পাওয়ার জায়গা জনগণের সামনে।
এলাকাবাসীর উত্থাপিত দুটি প্রধান সমস্যা গ্যাস সংকট ও জলাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো আবাসিক খাতে পাইপলাইনের গ্যাস ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া এবং শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানো। এজন্য আবাসিক গ্যাস লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কোনো প্রকল্প বা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি জানান, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গেলেও তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন নির্বাচিত সরকার ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
শেখ রবিউল আলম রবি দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের ভোটে যদি আমাদের দল সরকার গঠন করে, তাহলে যেখানে পাইপলাইনের গ্যাস আছে সেখানে তা অব্যাহত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই এলাকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস লাইনের মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্প পাবে এ দায়ভার আমি নিচ্ছি।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সমস্যার বড় কারণ হলো সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসা ও তিতাসসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। একটি সংস্থা কাজ করতে গিয়ে অন্য সংস্থার সেবা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কেউ কারও কথা ভাবছে না। এই সমন্বয়হীনতার কারণে জনগণ দুর্ভোগে পড়ছে।
হাতিরপুল হোটেল সোনারগাঁও এলাকার পানি নিষ্কাশনের গেট ও ধারণক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমান পানির চাপ পূর্ব পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। নির্বাচিত সরকার এলে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনীতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। আমরা সামষ্টিক স্বার্থের কথা ভাবতেই ভুলে গেছি। নগদ সুবিধা, তাত্ক্ষণিক লাভ ও কর্তৃত্বের লোভ রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে। রাজনীতিতে প্রয়োজন ত্যাগ, ধৈর্য ও আদর্শ।
নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সরাসরি জানানোর আহ্বান।
এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার দলের নামে বা অন্য কোনো দলের নামে কেউ যদি চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি বা নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটায় আজকের পর থেকে আমাকে সরাসরি জানাবেন। ভিডিও করুন, নাম সংগ্রহ করুন দায়িত্ব আমার।এলাকায় কোনো অনৈতিক চাপ বা সন্ত্রাসের জায়গা হবে না।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, সুখী হতে অনেক কিছু লাগে না নিরাপত্তা, ন্যায্যতা ও সম্মান পেলেই মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারে। অর্থ দিয়ে সুখ মাপা যায় না। আমাদের সমাজে স্বার্থ ছাড়া হাসি নেই, সালাম নেই এই মানসিকতা বদলাতে হবে।
তিনি সম্প্রীতির সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করে বলেন, রাজনীতিবিদরা পরিবর্তনের সূচনা করবেন, জনগণ পাশে থাকলে সেই পরিবর্তন বাস্তব হবে।
ভোটে জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া শুধু অধিকার নয়, রাষ্ট্র রক্ষার দায়িত্ব।তিনি এলাকাবাসীকে পরিবার, আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের ভোটে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, এই এলাকার সন্তান হিসেবে আপনাদের সমস্যা আমার সমস্যা। আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।
তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে পাশে রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা রাজনীতিতে ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনব।’
এ সময় স্থানীয় বিএনপি'র বিভিন্ন পর্যায়ে নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ







