সরকারের জবাবদিহির অভাবে দেশে সংকট তৈরি হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহির অভাবে গত দেড় বছরেও দেশে বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে।’
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ—সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। দেশে যদি কোনো নির্বাচিত সরকার থাকতো তাহলে তাদের প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকতো। আর এই জবাবদিহির কারণে নির্বাচিত সরকার সঠিকভাবে কাজ করতে বাধ্য থাকতো। তাই এই মুহূর্তে আমাদের একটাই লক্ষ্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকার গঠন করা।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের যে ঢিলেঢালা অবস্থা আমরা দেখছি—তা সত্যিই দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় বরং প্রতিদিনই এর অবনতি হচ্ছে। আগামী নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনারের উচিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা।’
নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের প্রতি সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজ নানা কারণে নির্বাচন কমিশনারের কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠছে। এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। এখন মানুষ চায় নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তারপর পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দেবে। এই নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনারকে দিতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সামগ্রিকভাবে সবকিছু সামাল দিতে পারছেন বলে আমার মনে হচ্ছেনা।’
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যদি কোনো দিকে হেলে পড়ে—তাহলে পুরনো দিনের মানষের যে আশঙ্কা সে আশঙ্কাই ফিরে আসবে। বিগত দিনে জনগণের যেভাবে ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে—তা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম।
এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







