প্রতিপক্ষ তারেক রহমানেও নির্ভার জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন গন্তব্যে ছুটে চলেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইতোমধ্যে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তারপরও রাজনীতির মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মাঠে না থাকা বিএনপিকে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর দ্রুত শক্তি সঞ্চয় ও সংগঠিত উত্থান বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনগুলোতে তাদের সাফল্য এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা বিএনপির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিএনপি এখনও এগিয়ে থাকলেও, ক্ষমতায় যাওয়ার পথ যে মোটেও সহজ নয় তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে মধ্য-ডানপন্থি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং কট্টর ডানপন্থি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি জোটের মধ্যে। এক সময় বিএনপি ও জামায়াত একে-অপরের রাজনৈতিক মিত্র ছিল এবং একসঙ্গে নির্বাচন করত। এমনকি ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারে জামায়াতের নেতারা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
মূলত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি অভিন্ন বৈরিতা দীর্ঘদিন বিএনপি ও জামায়াতকে একত্রে রেখেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাওয়ার পর সেই বন্ধন আর নেই। গত এক বছরে সংবিধান সংস্কার ও নির্বাচন কবে হবে এ ধরনের নানা ইস্যুতে দুই দলের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। আর নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে এবং ক্ষমতার লড়াই যত তীব্র হচ্ছে, বিএনপি ও জামায়াতের বিচ্ছেদ ততই অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে ভোট যত এগিয়ে আসছে, তত উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনি আলাপ। চলছে ভোটের নানারকম হিসাব-নিকাশ। বাদ যায়নি গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনও। সমাজের দুই প্রান্তের মানুষের অবস্থান এই আসনের নির্বাচনি আমেজে বৈচিত্র্য এনেছে। এখানে যেমন আছে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা তেমনি আছে টিনের চালের বস্তি। তাই জিততে হলে অভিজাত শ্রেণির সমর্থন যেমন লাগবে তেমনি লাগবে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের সমর্থনও।
যদিও মাসখানেক আগ পর্যন্ত এই আসনে মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন বিএনপির একাধিক নেতা। কিন্তু ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বদলে গেছে সব সমীকরণ। এখানে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান নিজে। সেক্ষেত্রে পাল্টে গেছে ভোটের মাঠের দৃশ্যপট। যেহেতু বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। এ খবরে এলাকার ভোটাররাও নড়েচড়ে বসেছেন।
নির্বাচনী ডামাডোল বাজার আগ থেকে অবশ্য এই আসনের অলিগলি চষে বেড়ান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। শুরুতে বিএনপি জোট থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ এখানে প্রার্থী ছিলেন। তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেয়ে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী। দাঁড়িপাল্লার জয় নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন তার নেতাকর্মীরাও। কিন্তু দৃশ্যপটে তারেক রহমানের আগমনের পর ধানের শীষের জোয়ারে কিছুটা খেই হারিয়েছে দাঁড়িপাল্লা। যদিও এখনও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমানতালে লড়ে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন জামায়াত প্রার্থী।
রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা- বিশ্বের বহু দেশের দূতাবাস এখানে অবস্থিত। এ কারণে এখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বেশ শান্ত পরিবেশ। ফলে এলাকাটি পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী রাজনীতিক, বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য শ্রেণির পছন্দের ঠিকানায়।
ঠিক এর পাশেই মহাখালী, ভাষানটেকের বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন বস্তিতে রয়েছে বহু স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস। কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি এ আসনের অংশ। এজন্য ভোট এলে এসব বস্তির বাসিন্দারা হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ। অভিজাত আর সাধারণ শ্রেণির ভোট সমানভাবে যে টানতে পারবে, সে-ই হাসবে বিজয়ের হাসি।
জামায়াত নেতারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হলেও কোনো চিন্তা নেই। তারা তাদের মতো কাজ করছেন। আমরা আমাদের মতো কাজ করব। আমরা ভোটের মাঠে তারেক রহমানকে সাধুবাদ জানাই। তিনি এলেও ভোটের সমীকরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কারণ ভোটাররা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। আশা করি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। এর পরদিন থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তখন থেকে প্রচার শুরু করবেন। তিনি আগে সিলেটে যাবেন। সেখান থেকেই তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।
নির্বাচনে তারেক রহমান বিপুল ভোটে জিতবেন আশা রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। তার হাত ধরে দেশের পরিবর্তন চান সাধারণ মানুষ। এজন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে আগামীর কাণ্ডারি বানাতে চান ভোটাররা। শুধু ঢাকা-১৭ আসনের ভোটাররাই নন, গোটা বাংলাদেশের মানুষই তার জয় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আমরা আশা করছি। কেননা জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী একটা সুন্দর পরিবর্তন দেখতে চান মানুষ। তারেক রহমানের হাত ধরে এ পরিবর্তনটা আরও বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে, জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা আশা করছেন তাদের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানই এ আসনের কাণ্ডারি হবেন। তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে জামায়াতের ভোট অনেক বেড়েছে। এখন সব জায়গায় দাঁড়িপাল্লার নাম শোনা যায়। এই জোয়ারে ঢাকা-১৭ আসনে এমপি নির্বাচিত হবেন ডা. খালিদুজ্জামান।
বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া আরও কয়েকজন এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাদের কারও বিষয়ে সাধারণের মধ্যে তেমন কোনো আলাপ-আলোচনা নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির হয়ে এখানে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন তাজনূভা জাবীন। পরে তিনি দল থেকেই পদত্যাগ করেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানান।
জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান বলেন, আগামীতে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে আমাদের দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দমে যাইনি। বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভুত্থানের পর আমাদের সেই পথটি আরও উন্মোচিত হয়েছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষই এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছেও জামায়াতের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার। নারী-পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ১৬ হাজার কম। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া আরও কয়েকজন এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাদের কারও বিষয়ে সাধারণের মধ্যে তেমন কোনো আলাপ-আলোচনা নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির হয়ে এখানে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন তাজনূভা জাবীন। পরে তিনি দল থেকেই পদত্যাগ করেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানান।
এ ছাড়া আসনটিতে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়ে পরে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন জহির রায়হানের ছেলে তপু রায়হান। তিনি বাইসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত আর দুজন এখানে প্রার্থী হিসেবে আছেন। তারা হলেন কামরুল হাসান নাসিম (বিজেপি) ও কাজী এনায়েত উল্লাহ (স্বতন্ত্র)।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে তেমন কিছু চান না বস্তিবাসীরা। শুধু ভোটে জেতার পর একটু খোঁজখবর নিলেই খুশি তারা। আগে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা অনেক কিছু কথা দিলেও শেষে রাখেননি। এজন্য এবার যিনি তাদের দেওয়া কথা রাখতে পারবেন তাকেই তারা ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন বস্তির বাসিন্দারা।
বাংলাদেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যু তারেক রহমান ও বিএনপির প্রতি সহানুভূতির ঢেউ তুলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো আসন্ন নির্বাচনে দলটির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ মোটেও সহজ নয়, কারণ জামায়াতও ধীরে ধীরে শক্তি বাড়াচ্ছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ও অন্যান্য ইসলামপন্থি সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তারা পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা করে এবং ‘ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধে’ জড়িত ছিল। এর খেসারত জামায়াতকে দীর্ঘদিন দিতে হয়েছে। যদিও দলটির শক্তিশালী ও সুসংগঠিত তৃণমূল নেটওয়ার্ক আছে এবং রাজপথের উল্লেখযোগ্য শক্তিও আছে, তবু অতীতে তারা বড় কোনও নির্বাচনী সাফল্য পায়নি।
তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে পারে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ভালো ফল করেছে। শহুরে তরুণদের মধ্যে তাদের সমর্থন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবর্তন ও সুশাসনের প্রত্যাশায় থাকা অনেক ভোটারের কাছে জামায়াত এখন আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।
আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও দলটির কিছু নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তিও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর তা কিছুটা কমলেও এখনও এই ভোটব্যাংক বেশ বড়। এই ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন, তা-ই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে— বিশেষ করে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হলে।
এছাড়া মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হচ্ছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। অতীতে তারা আওয়ামী লীগকে ‘ভোট দিতেন’। কিন্তু এবার বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই এখন এই ভোটব্যাংকের দিকে তাকিয়ে আছে। হিন্দু ভোটাররা বলছেন, দুই দল থেকেই তারা ‘ভয়ভীতি ও চাপের’ মুখে পড়ছেন। এছাড়া নেতৃত্ব পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলই আওয়ামী লীগ সমর্থকদের টানতে নিজেদের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশে ফেরার পর প্রথম জনসভায় তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের কথা বলেছিলেন, যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও জায়গা থাকবে। জামায়াতের নাম না নিয়ে তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেন, ‘১৯৭১ সালে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তারা (জামায়াত) ‘লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল’।’ অন্যদিকে জামায়াত তাদের স্বাধীনতাবিরোধী, নারী-বিদ্বেষী ও রক্ষণশীল ভাবমূর্তি ঝেড়ে ফেলতে চাচ্ছে। গতস ডিসেম্বরের শেষ দিকে তারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)-কে তাদের জোটে টানে।
এলডিপির নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াত আশা করছে, তার অন্তর্ভুক্তিতে ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার কারণে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও কাটবে। অন্যদিকে এনসিপি গড়ে উঠেছিল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে এবং ধারণা করা হচ্ছিল, তারা তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের টানবে। কিন্তু দলের তুলনামূলক ধর্মনিরপেক্ষ অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিএনপি না জামায়াত কাকে ভোট দেবেন, তা নির্ভর করবে তারা অতীত ভুলে যেতে রাজি কি না তার ওপর। জামায়াত এখন দাবি করছে, তারা সংখ্যালঘু বা নারী-বিরোধী নয়। কিন্তু তাদের প্রার্থী তালিকাই ভিন্ন কথা বলছে। তারা মাত্র একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে এবং কোনও নারী প্রার্থী দেয়নি।
বিএনপির ক্ষেত্রে তারেক রহমান এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মধ্যপন্থি রাজনীতির কথা বললেও তার উদ্যোগেই অতীতে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। খালেদা জিয়া ও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অন্য সিনিয়র বিএনপি নেতারা নাকি সেই জোট নিয়ে ‘অস্বস্তিতে’ ছিলেন। এছাড়া বিএনপি এবার মাত্র দুজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা এটাও বিবেচনায় নেবেন যে ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কে তুলনামূলক ভালো বিকল্প। বিএনপির ‘নতুন ভিশন’ তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কয়েক দশকের বৈরিতা কি তারা ভুলতে পারবে?
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একে অপরের সরকার অচল করে দিয়েছে, রাজপথে ও নির্বাচনে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়েছে। এখন সেই আওয়ামী লীগ সমর্থকেরাই পাল্টে দিতে পারে ভোটযুদ্ধের সমীকরণ।
ভিওডি বাংলা/ এমএম





