• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৭ পি.এম.
ডেনিশ ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের-ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিতর্ক ও চাপের মধ্যেই স্বায়ত্তশাসিত এই ডেনিশ ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও ভূ-রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উত্তর আমেরিকার মহাকাশ প্রতিরক্ষা কমান্ড-নোর্যাড (NORAD) এক বিবৃতিতে জানায়, শিগগিরই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে মার্কিন যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে। এই ঘাঁটিটি আগে থুলে এয়ার বেস নামে পরিচিত ছিল এবং এটি উত্তর আমেরিকার যোগাযোগ ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদুলো এজেন্সি।

নোর্যাড জানিয়েছে, এই মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ। এতে স্পষ্ট করা হয় যে, ডেনমার্ক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি আগেই অবহিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য নিয়মিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই যুদ্ধবিমানগুলো উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান করবে। নোর্যাড দাবি করেছে, এটি কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ নয়; বরং বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় একটি রুটিন মোতায়েন।

তবে এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তিনি অঞ্চলটির বিশাল খনিজ সম্পদ, কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আসছেন।

অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা একাধিকবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনো বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি নয় এবং এটি ডেনমার্কের সার্বভৌম ভূখণ্ড, যার ওপর গ্রিনল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নোর্যাড চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক উপস্থিতি আগে থেকেই রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের জমি কেনার আগ্রহ মূলত ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং আর্কটিক অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গাজায় তুরস্ক ও কাতারের সেনাদের স্থান হবে না: নেতানিয়াহু
গাজায় তুরস্ক ও কাতারের সেনাদের স্থান হবে না: নেতানিয়াহু
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান
বহু বাড়িঘর ধস শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান
ইউরোপ ট্রাম্পের চাপে মাথা নত করবে না
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ইউরোপ ট্রাম্পের চাপে মাথা নত করবে না