• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ফিনল্যান্ড থেকে শক্তিশালী আইসব্রেকার কিনছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৪ এ.এম.
আর্কটিক অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের উন্নত আইসব্রেকার প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি

আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার একচেটিয়া প্রভাব এবং চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবিলায় বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বের শীর্ষ আইসব্রেকার নির্মাতা দেশ ফিনল্যান্ডের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আইসব্রেকার জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকেন্দ্রিক ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অবস্থিত ‘আকার আর্কটিক টেকনোলজি’ ল্যাবরেটরিতে বর্তমানে পরবর্তী প্রজন্মের আইসব্রেকার জাহাজের নকশা পরীক্ষার কাজ চলছে। এখানে ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক ট্যাঙ্কে ক্ষুদ্র মডেলের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে, কীভাবে জাহাজটি পুরু ও জমাট বরফ ভেঙে নিরাপদে এগিয়ে যেতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মিকা হোভিলাইনেন জানান, আইসব্রেকারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর হাল বা আকৃতি। এই জাহাজ বরফ কাটার পরিবর্তে বরফকে নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভেঙে সামনে এগিয়ে যাবে, যা একে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করে তুলবে।

আইসব্রেকার নির্মাণে ফিনল্যান্ড বিশ্বে কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ আইসব্রেকার জাহাজের নকশা ফিনিশ কোম্পানিগুলোর তৈরি এবং প্রায় ৬০ শতাংশ আইসব্রেকার সরাসরি ফিনল্যান্ডের শিপইয়ার্ডে নির্মিত। দেশটির দীর্ঘ শীতকালীন অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাই এই সাফল্যের মূল কারণ।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আর্টিকা’র প্রধান নির্বাহী মাউনু ভিসরি বলেন, শীতকালে দেশের প্রায় সব বন্দরই বরফে জমে যায়। ফলে আইসব্রেকার ছাড়া ফিনল্যান্ডের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে পড়বে। তিনি জানান, দেশের মোট আমদানির প্রায় ৯৭ শতাংশই আইসব্রেকারের সহায়তায় সচল রাখা সম্ভব হয়।

গত বছরের অক্টোবরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য ফিনল্যান্ড থেকে চারটি আইসব্রেকার কেনা হবে। পাশাপাশি আরও সাতটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হলেও সেগুলোতে ব্যবহার করা হবে ফিনিশ প্রযুক্তি ও নকশা। ‘আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার’ নামে পরিচিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ট্রাম্প মার্কিন অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ সংক্রান্ত কঠোর আইনেও শিথিলতা আনেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা মোকাবিলাই এর প্রধান লক্ষ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক মহাসাগরের বরফ দ্রুত গলছে, ফলে নতুন বাণিজ্যিক নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে। এসব পথ ব্যবহার করলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নৌপথে যাতায়াত আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের তলদেশে থাকা বিপুল তেল ও গ্যাস সম্পদের নিয়ন্ত্রণ পেতেও পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।

হেলসিংকিভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার রিবস্কি মনে করেন, আর্কটিক অঞ্চল এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। তার মতে, ভবিষ্যতে এই অঞ্চল ঘিরেই বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন