• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র:

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের অভিযোগ গঠন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৪ পি.এম.
শেখ হাসিনা-ছবি-ভিওডি বাংলা

জয় বাংলা ব্রিগেডের অনলাইন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠন স্থগিত করা হয়েছে।  

ঢাকার বিশেষ জজ-৯ আদালত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ২৮৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন স্থগিত করেছে। মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য এই দিন ধার্য ছিল। আদালতে হাজির করা হয়েছে কারাগারে থাকা ৩০ আসামিকে। এর মধ্যে ৫ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষ।

আসামিপক্ষে তাদের আইনজীবীরা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে সব আসামির পক্ষে অব্যাহতির শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১১ নভেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তত হওয়ায় তা বদলির আদেশ দেন। এরপর মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জনকে। অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইব্রাহীম খলিল বিপুল, মো. আব্দুস সবুর, মেহেদী হাসান আকাশ, এ কে এম আকতারুজ্জামান, সুশান্ত ভৌমিক, নিজাম বারী, মো. নুর উন নবী মন্ডল, কাজী আবুল কালাম, মোছা. মেরিনা খাতুন মেরি, রফিকুল ইসলাম, জিন্নাত সুলতানা ঝুমা, মেহেদী হাসান ঈশান এবং জনি চন্দ্র সূত্রধর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠন করা হয়। এই মিটিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা দেশে একটি গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনঃপ্রধানমন্ত্রী করার পরিকল্পনা করেন। মোট ৫৭৭ জন দেশ-বিদেশ থেকে ওই জুম মিটিংয়ে অংশ নেন। ড. রাব্বি আলম (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) মিটিং হোস্ট করেন।

মিটিংয়ের আলোচনায় বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না এবং বর্তমান সরকার উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এই কর্মকাণ্ডকে ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহের উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সদর আদালতের অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তিনি সিআইডির অধীনে তদন্ত পরিচালনা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলম, জয় বাংলা ব্রিগেডের সদস্য কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ নেতা সাবিনা ইয়াসমিন, আজিদা পারভীন পাখি, অ্যাডভোকেট এএফএম দিদারুল ইসলাম, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাখ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।

মামলার মূল অভিযোগ হচ্ছে, অনলাইন মিটিংয়ে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ গঠনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা। আদালত এ বিষয়ে সব আসামির পক্ষে অব্যাহতির শুনানি শেষ না হওয়ায় আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের জন্য পুনরায় দিন ধার্য করেছেন।

মামলার আইনগত প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে, আসামিরা বিদেশ থেকে অংশ নিয়েও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করেছেন। তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, ভয়েস রেকর্ড এবং অন্যান্য সাইবার তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এই মামলার শুনানি দেশের রাজনৈতিক এবং বিচারিক ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ড বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চানখাঁরপুলে ৬ হত্যার মামলার রায় পিছিয়েছে
চানখাঁরপুলে ৬ হত্যার মামলার রায় পিছিয়েছে
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা আবারও গ্রেফতার
ইভ্যালির রাসেল-শামীমা আবারও গ্রেফতার
হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়া যার পেশা!
ভবঘুরের আড়ালে খুনি হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়া যার পেশা!