গোলাম পরওয়ার
পেশিশক্তি ব্যবহারে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে

পেশিশক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে বাধা, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং পরে স্থানীয় জামায়াত ও শিবির কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মিরপুরের পীরেরবাগে আলিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাসায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের একটি সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। ওই বৈঠক চলাকালে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বাসাটির ভেতরে অবস্থানরত জামায়াতের নারী নেত্রীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তাদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার খবর পেয়ে তাদের উদ্ধারে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে কয়েকজনকে একটি মসজিদের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে জানানো হয়, পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ সহায়তায় অবরুদ্ধ নারী নেত্রীদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সন্ত্রাসীদের এই বর্বরোচিত হামলার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য।” তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে একটি মহলের পক্ষে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।”
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে পেশিশক্তি ব্যবহার করে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ভোটারসহ সব রাজনৈতিক দলের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সকল প্রকার ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আপামর জনতার প্রতি আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/জা






