তানভীর আহমেদ
১৮ বছর পর জাতি আবারও ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, প্রায় ১৮ বছর পর জাতি আবারও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিন বলেন, পুরো দেশ, সমগ্র জাতি প্রায় ১৮ বছরে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আজ প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামীকাল থেকে আমরা প্রচার–প্রচারণায় নামবো, মানুষের কাছে যাব এবং মানুষের ভোট প্রত্যাশা করব। আমরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করব।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পথে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে হারাতে হয়েছে, হারিয়েছি অনেক স্বজনকে। আমাদের নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে আজ একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সূচনা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।
নিজ এলাকা ও ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, দেখুন আমি ঢাকা-৪ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছি। আমি শ্যামপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই সেখানে বড় হয়েছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমাদের সবসময়ই গভীর সম্পর্ক ছিল। এই দীর্ঘ আন্দোলন–সংগ্রামের সময় আমাদের এলাকা থেকেই আমাকে বারবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু এলাকাবাসী সবসময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আজও আমি এলাকার মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছি।
প্রবাসী ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে আজ আমাদের প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে কাটিয়েছেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকেছেন তাঁরাও এ দেশের নাগরিক এবং তাঁদের নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে।
তিনি বলেন, এই সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার–প্রচারণা শুরু করব। এ উপলক্ষে একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আমাদের মুরুব্বি, বয়োজ্যেষ্ঠ ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের দোয়া ও আশীর্বাদ নিয়ে আমরা প্রচারণায় নামবো, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার জন্য। দীর্ঘদিন পর সমগ্র জাতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে, যেখানে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে—যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় আসনটি নয়টি সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এবং দুটি থানা নিয়ে এর বিস্তৃতি। এটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও আমাদের পুরো এলাকাই দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই আমি এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছি, উঠান বৈঠক করেছি। সেখানে মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা ও অসুবিধার কথা তুলে ধরেছেন। আমি সেসব সমস্যার প্রতি দৃষ্টি দিয়েছি এবং সেগুলো সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। এই অঙ্গীকারগুলো মানুষের দাবি, আর সেই দাবিগুলো পূরণ করাই আমার লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, আমি মানুষের কাছে সেই অঙ্গীকার নিয়েই যাব এবং তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ






