বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর:
একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বর্তমানে দেশে টাকার ঘাটতি থাকায় একসঙ্গে সব দুর্বল ব্যাংক ঠিক করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আগামীতে প্রথমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে, পরে ধীরে ধীরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধান করা হবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় তিনি এসব তথ্য দেন। গভর্নর আরও বলেন, অতীতের কিছু খারাপ ব্যাংকের জন্য টাকার ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখন টাকার ঘাটতির কারণে সব ব্যাংক একসঙ্গে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।
ড. মনসুর জানান, ঋণখেলাপি শতভাগ কাভারেজ না হলে কোনো ব্যাংক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারবে না। তিনি বললেন, দুর্বল ব্যাংক কোনোভাবেই ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না এবং এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক লক্ষ্য করেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ খেলাপি ৩০ শতাংশে নামানো এবং পরবর্তী বছরের মার্চে তা ২৫ শতাংশে আনা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, সরকার দুটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক রাখবে এবং বাকি ব্যাংকগুলোর মার্জ বা একীভূতকরণের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে দেশে ১৫টির বেশি ব্যাংক প্রয়োজন নেই। আগামী ২-৩ বছরে ১২-১৩টি ব্যাংক পুনর্গঠন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রেজুলেশন ফার্ম গঠন করতে চাচ্ছে। এই ফার্মের জন্য ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে একটি ফান্ড তৈরি করা হবে, যা সংকটের সময় সরকারের ওপর নির্ভরতা কমাবে। গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং খাতে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে ব্যাংকের কার্যক্রমকে দুর্বল করে, তা প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, দুর্বৃত্তায়ন, অনিয়ম, পরিবারতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বেরিয়ে গেছে। এই অর্থের মধ্যে হয়তো কিছু পাচারও হয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন নয়, তবে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ড. মনসুর আরও বলেন, দেশের রাজস্ব ফাঁকির প্রধান উপায় হল নগদ অর্থ। তাই যদি দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা যায়, তাহলে বছরে রাজস্ব আদায় ১.৫ থেকে ২ লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি শেষের দিকে উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ, কার্যকর প্রশাসনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও অপরিহার্য।
ভিওডি বাংলা/জা







