জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য:
চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াত নেতার অনড় অবস্থান

চট্টগ্রামে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ পেরিয়ে গেলেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের এখনও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। এ অবস্থায় জোটের ভবিষ্যৎ ও আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন চূড়ান্ত জোট প্রার্থী এনসিপি নেতা জোবাইরুল হাসান আরিফ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ। এনায়েত উল্লাহও চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন, তবে জোটের সিদ্ধান্ত মেনে মঙ্গলবার তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে জামায়াতের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার নায়েবে আমির ডা. আবু নাছের এখনও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন এবং তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ বলেন, “জোটের সিদ্ধান্ত ছিল, যাকে চূড়ান্ত করা হবে বাকিরা তাকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়াবে। আমি জোটের স্বার্থে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি। আমরা জামায়াতের প্রার্থীকে অনুরোধ করব জোটের ঐক্য রক্ষায় চূড়ান্ত প্রার্থীকে সমর্থন জানান।”
এ বিষয়ে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ বলেন, “জোট ছাড়ার প্রশ্ন আসে না। তবে জাতীয় স্বার্থে আঘাত লাগলে যেকোনো কিছু হতে পারে। জামায়াত নেতারা আমাকে জানিয়েছেন, ডা. আবু নাছের চট্টগ্রামে না থাকার কারণে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি। আমি তাকে পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বর্তমানে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জোবাইরুল হাসান আরিফ ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন: এরশাদ উল্লাহ (বিএনপি), মোহাম্মদ নুরুল আলম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট) এবং মোহাম্মদ এমদাদুল হক (ইনসানিয়াত বিপ্লব)।
নির্বাচনী জোটের নেতারা বলছেন, “প্রার্থী প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে একতা বজায় রাখা জোটের মূল চ্যালেঞ্জ। অনির্দিষ্ট সময় ধরে বিদ্রোহী প্রার্থীরা থাকলে জোটের প্রভাব হ্রাস পেতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই নেওয়া হবে।”
চট্টগ্রাম-৮ আসনের এই জটিল পরিস্থিতি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী জোটের ঐক্য রক্ষার ক্ষেত্রে জামায়াতের এই অনড় অবস্থান নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীদের কৌশলগত অবস্থান ও ভোটের সম্ভাব্য প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
জোটের নেতা ও অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিশ্চিত করেছেন, “যে কোনো পরিস্থিতিতে জোটের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন করতে অন্যান্য দলগুলোর প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের অমিল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অবস্থান নির্বাচনে ভোট বিভাজন ঘটাতে পারে। তাই জোটের নেতৃত্ব দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
চট্টগ্রামের এই নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা আগ্রহ নিয়ে প্রতিটি দলের প্রতিক্রিয়া এবং জোটের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে, জোটের ঐক্য কতটা স্থিতিশীল থাকবে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর সিদ্ধান্ত নির্বাচনী ফলাফলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উৎসাহ ও আলোচনা বেড়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা






