• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিএনপিতে যোগ দিলেন আ'লীগের সাবেক মন্ত্রী আবু সাইয়িদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক    ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য প্রফেসর ড আবু সাইয়িদ বিএনপিতে যোগদান করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে যোগদান করেন তিনি।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রফেসর আবু সাইয়িদকে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণ করেছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন., ‘চারিদিকে  উগ্রবাদ যেভাবে উত্থান হচ্ছে তাতে একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, এখন বিএনপি একমাত্র দল যাকে সামনে এগিয়ে নেয়া উচিত। সেজন্য আমি বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।'

তিনি জানান, পাবনা-১  আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দল বললে নির্বাচনে থাকবো।

অধ্যাপক ডক্টর আবু সাইয়িদ একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, লেখক ও গবেষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক পাবনা জেলা গভর্নর, তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন; তিনি পাবনা ৮ ও পাবনা ১ আসনের (সাঁথিয়া-বেড়া) সংসদ সদস্য ছিলেন।

তিনি ১ নভেম্বর ১৯৪৩ সালে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার বৃশালিখা তে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন তার পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল "ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ বাংলাদেশ: এ ডিপলোমেটিক ওয়ার"

অধ্যাপক ড.আবু সাইয়িদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাকসু ভিপি ছিলেন। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সাত নম্বর সেক্টরে উপদেষ্টা ও ক্যাম্প ইনচার্জ ছিলেন। ১৯৭২ সালে গঠিত ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মিল্কভিটার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সার্ক -এর তথ্য বিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান।

১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন পাবনা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৫ সালে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল সরকার কর্তৃক পাবনা জেলার গভর্নর নিযুক্ত হন। অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বাকশালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন।

১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাবনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সপ্তম জাতীয় সংসদে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ-এর পরিকল্পনা ছিল সাঁথিয়া -বেড়া নির্বাচনী এলাকার বৈপ্লুবিক রূপান্তর ঘটাবেন। হয়েছিলও। থানার সাথে ইউনিয়ন , ইউনিয়ন -এর সাথে গ্রামের সংযোগ তৈরি করা হয়। অবকাঠামো উন্নয়নের এই দৃষ্টান্ত তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (পরবর্তী সময় রাষ্ট্রপতি) মহান সংসদে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্বীকার করেছিলেন।

তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাকশালের প্রার্থী হিসেবে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণফোরাম থেকে পাবনা-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পরাজিত হন।

ভিওডি বাংলা/ এমএম

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
ঢাকা-৯ ধানের শীষ পেলেন হাবিব
ঢাকা-৯ ধানের শীষ পেলেন হাবিব
১৮ বছর পর জাতি আবারও ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে
তানভীর আহমেদ ১৮ বছর পর জাতি আবারও ভোটাধিকারের সুযোগ পাচ্ছে