• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

শিনজো আবে হত্যার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৪ পি.এম.
শিনজো আবে হত্যার দায়ে তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে-ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামি (৪৫)–কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

সাড়ে তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড জাপানজুড়ে তীব্র শোক ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০২২ সালের জুলাই মাসে পশ্চিম জাপানের নারা শহরে একটি নির্বাচনি প্রচারণা সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ঘরে তৈরি বন্দুক দিয়ে ইয়ামাগামি আবেন গুলি করে হত্যা করেন। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে নারার জেলা আদালতে প্রথম শুনানিতে ইয়ামাগামি হত্যার দায় স্বীকার করেন। ফলে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। এরপর আদালতের মূল মনোযোগ ছিল শাস্তির মেয়াদের দিকে। রাষ্ট্রপক্ষ গত মাসে আবেদন করে, হত্যাকাণ্ডটি যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি গ্রহণ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

যদিও হত্যার সময় আবে ক্ষমতায় ছিলেন না, তবু তিনি ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ভেতরে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর দলটিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে একাধিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেন।

শিনজো আবে দুই মেয়াদে মোট ৩ হাজার ১৮৮ দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আবে-পরবর্তী সময়ে এলডিপির রাজনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবে ছিলেন প্রভাবশালী এক কূটনীতিক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আলোচিত ছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করা বিদেশি নেতা ছিলেন আবে। পরবর্তী বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের পর এলডিপি ও বিতর্কিত ইউনিফিকেশন চার্চের সম্পর্কও প্রকাশ্যে আসে। দলীয় তদন্তে দেখা যায়, শতাধিক আইনপ্রণেতার সঙ্গে ওই সংগঠনের যোগাযোগ ছিল। এতে দলটির জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামে।

আদালতে ইয়ামাগামি জানান, তার মা ইউনিফিকেশন চার্চে বিপুল অর্থ অনুদান দেওয়ায় পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। এ থেকেই তার মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নেয়। তিনি দাবি করেন, চার্চ-সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে আবে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তাই তিনি আবেকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, পারিবারিক দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইয়ামাগামির সাজা সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি গ্রহণ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

এই ঘটনার পর জাপানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধাক্কা লাগে। এলডিপির রাজনৈতিক শক্তি কিছুটা ক্ষয় পায় এবং দেশজুড়ে আবে হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা বৃদ্ধি পায়।

ভিওডি বাংলা/জা

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন