• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে কুয়াকাটায় মানববন্ধন

বরগুনা প্রতিনিধি    ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২১ পি.এম.
কার্বনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে কুয়াকাটায় মানববন্ধন। ছবি: ভিওডি বাংলা

কার্বন মুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং কার্বন নিঃসরণকারী দেশের নিকট ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিচ ক্লিনিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস)। সকাল ১১টায় কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে আয়োজিত মানববন্ধনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন এনএসএস নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা, কমিটির কোষাধ্যক্ষ খায়রুল বাশার বুলবুল, কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন আমতলী এপি ম্যানেজার বিভুদান বিশ্বাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপরা’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন রাজু, সাংবাদিক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

 এ সময় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ উপকূল গড়ে তোলার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।

মানববন্ধন শেষে এনএসএস-এর উদ্যোগে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সৈকত পরিষ্কার করা হয়। অভিযানে দুই শতাধিক প্রতিনিধি ছাড়াও পর্যটক ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা অংশগ্রহণ করেন

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

এ বিষয়ে এনএসএস নির্বাহী নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পাননা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই উপকূল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য পরিবেশবান্ধব আচরণ, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

কেয়ার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ তাদের অভিযোজন সক্ষমতা সবচেয়ে কম। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প জীবিকা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভিওডি বাংলা/ জাহিদুল/ এম

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফোর লেন প্রকল্পের মাটি কেটে মিলছে কয়লা সদৃশ জ্বালানি
পরিবেশ ঝুঁকিতে ফোর লেন প্রকল্পের মাটি কেটে মিলছে কয়লা সদৃশ জ্বালানি
সাংবাদিক ইয়াকুব খান শিশিরের বিদায়
সাংবাদিক ইয়াকুব খান শিশিরের বিদায়
রাজশাহীতে কুয়াশায় বোরো বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
রাজশাহীতে কুয়াশায় বোরো বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক