• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

করাচিতে শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্য ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৫ এ.এম.
করাচির গুল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে একটি ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ জনের মরদেহ। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

গত ১৭ জানুয়ারি করাচির অন্যতম বড় ও পুরোনো শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন লাগার পর তা অত্যন্ত দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডন-এর বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানেও এখনও বহু নিখোঁজের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আসাদ রাজা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের একটি দোকান থেকে একসঙ্গে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।

আসাদ রাজা আরও বলেন, এই ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধারের পর গুল প্লাজায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে পৌঁছেছে। এখনও ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত ও অনুসন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে গুল প্লাজার বেসমেন্টে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছিল। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

১৯৮০ সালে নির্মিত পাঁচতলা এই শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এখানে প্রায় ১ হাজার ২০০টির বেশি দোকান রয়েছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এসব দোকানের অধিকাংশই সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সূত্র জানায়, করাচির ইতিহাসে এর আগে এত বড় পরিসরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখা যায়নি।

হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে গুল প্লাজা কর্তৃপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে করাচি ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, শপিং কমপ্লেক্সটিতে মোট ২৬টি গেইট থাকলেও নিয়মিত চলাচলের জন্য মাত্র দুটি গেইট খোলা রাখা হতো। বাকি গেইটগুলো সবসময় বন্ধ থাকত। অগ্নিকাণ্ডের সময়ও এসব গেইট খোলা হয়নি, ফলে শত শত মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।

এছাড়া মার্কেটের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। অনেক অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র নষ্ট ছিল এবং জরুরি নির্গমন পথ কার্যকর ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এসব কারণেই প্রাণহানির মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুন থেকে বাঁচার আশায় দোকানটির ভেতরে থাকা লোকজন শাটার বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া ও আগুনের চাপে বের হতে না পারায় সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় করাচিসহ পুরো পাকিস্তানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তৃপক্ষ গুল প্লাজার ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফিনল্যান্ড থেকে শক্তিশালী আইসব্রেকার কিনছে যুক্তরাষ্ট্র
ফিনল্যান্ড থেকে শক্তিশালী আইসব্রেকার কিনছে যুক্তরাষ্ট্র
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
কামচাটকায় ১৩০ বছরের রেকর্ড ভাঙা তুষারপাত, জীবন অচল
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার জাহাজ থেকে কোকেন জব্দ