• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চট্টগ্রাম বন্দর ‘গোপন চুক্তি,’ স্থগিতের দাবিতে ১শ’ শিক্ষার্থীর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭ এ.এম.
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনা ও নির্মাণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত ‘গোপন’ কনসেশন চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলে এসব চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ এবং চূড়ান্ত পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১০০ শিক্ষার্থী ডাকযোগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সরকারের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএ-এর সঙ্গে দুটি পৃথক কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এসব চুক্তির শর্ত ও আর্থিক কাঠামো জনসম্মুখে প্রকাশ না করাকে সংবিধানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন তারা।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এসব চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘ ৪৮ বছরের জন্য (৩+৩০+১৫ বছর) কনসেশনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা তৈরি করছে। এছাড়া কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে মাত্র ১১ থেকে ১৩ দিনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে তারা ‘অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

চিঠিতে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতি কনটেইনারে যেখানে ১৬৭ ডলার মাশুল আদায় করা সম্ভব, সেখানে মাত্র ২১ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

এ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, এমন একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, মানবিক অবস্থান ও নৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের আশঙ্কা, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদেশি নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংশ্লিষ্ট ইস্যু হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ প্রেক্ষিতে তারা সরকারের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো—
১. ‘নন-ডিসক্লোজার’ শর্তযুক্ত কনসেশন চুক্তিগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
২. নিরপেক্ষ অর্থনৈতিক, আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা।
৩. ওই পর্যালোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির আওতায় সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখা।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব
এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব
এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে
এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে
জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন জানান প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী
জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন জানান প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী