ইশরাক হোসেন:
গণতন্ত্র-জনগণের সরকার গঠনের অঙ্গীকারে গণসংযোগ শুরু করলেন

ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদরঘাট চৌরাস্তা (বাটার মোড়) তার নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সদরঘাট চৌরাস্তা (বাটার মোড়) তার নির্বাচনী প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে ঢাকা ছয় থেকে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে এসেছি। আমার বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা আপনাদের অনেকেরই এখানে সহযোদ্ধা ছিলেন, পরিচিতও ছিলেন এবং এই এলাকা থেকে চারবার সাবেক নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা আমাদের প্রয়াত তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে আমাদের আজকের বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম লড়াই করেছি কেবলমাত্র মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৫ আগস্ট একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করেছি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ।
এই নির্বাচন যদি সফলভাবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি দৃষ্টান্ত রাখা যায়, তাহলেই আমাদের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও লড়াই স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র স্থায়ীভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার যে লড়াই আমরা করছি, তা আমরা স্থাপন করতে পারবো।
এলাকাবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকাবাসীসহ যারা রয়েছেন আপনারা সবাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের ভোটটি দেবেন।
ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আপনাদের কাছে আমি কেন ভোট চাইছি। আমি ইতিপূর্বে কোনো দায়িত্ব পালন করিনি, না সরকারি ও না সাংগঠনিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম না। তাই আমার কোনো পরীক্ষা দেওয়ারও সুযোগ হয়নি। আমি আপনাদের বলব, আপনারা আমাকে একটি সুযোগ দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আমি আপনাদের কোনোভাবেই হতাশ করব না।
এলাকার সমস্যা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, গ্যাস সংকট, যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ু ও শব্দ দূষণ এবং সংকীর্ণ রাস্তা ঢাকা-৬ এর বড় সমস্যা। আমরা এসব সমস্যার সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। আমরা সেই অর্থ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনব।
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক, যেখানে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র জবরদস্তি করতে পারবে না।বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করেছে এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।
নারী ভোটারদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে ৫১.৬ শতাংশ নারী ভোটার রয়েছেন। মা-বোনদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের জনগণ জানে কারা বাংলাদেশের পক্ষের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার আদর্শে গড়া বিএনপি কখনো জাতীয় স্বার্থে আপোষ করবে না। জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার নিয়ে কোনো আপোষ হবে না। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি বলে জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত গুম-খুন, সন্ত্রাস ও গণহত্যার বিচার অবশ্যই হবে জানিয়ে ইশরাক বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা ৩১ দফার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বদলে দেব এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব।
তিনি আরও উল্লেখ, এই পর্যায়ে আমাদের গণসংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করছি। এখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু হোক ইনশাআল্লাহ।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি'র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী তার নির্বাচনী প্রচারণায় যোগদেন।
ভিওডি বাংলা-সবুজ/জা






