• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৯ পি.এম.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও আন্দোলনকারীদের ওপর দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক জোয়ে কেরনেন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে-এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে? জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “না, আমি আশা করছি ভবিষ্যতেও কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না। আপাতত বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে।”

তবে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “তারা রাস্তায় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে-এটা আমার কাছে খুবই বড় বিষয়। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও সত্য যে তারা ৮৩৭ জনের ফাঁসির দণ্ড রদ করেছে। যাদের অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মের।”

উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং তা সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেয়। ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করে।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একাধিক পোস্টে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “সাহায্য আসছে।” এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

এর মধ্যেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রায় ৯০০ আন্দোলনকারীকে দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসির দণ্ড দেয় ইরানের বিচার বিভাগ। এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এসব দণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে ইরান সরকার ওই ফাঁসির দণ্ডগুলো স্থগিত করে। তখন ইরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বর্তমানে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত থাকলেও ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির অবনতি হলে ওয়াশিংটনের অবস্থান আবারও কঠোর হতে পারে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস অবসরে
নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস অবসরে
শিনজো আবে হত্যার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
শিনজো আবে হত্যার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যে দেশে প্রতি ৩৪ মিনিটে বিয়ে, ৭৫ মিনিটে তালাক
যে দেশে প্রতি ৩৪ মিনিটে বিয়ে, ৭৫ মিনিটে তালাক