ঝলমলে ও সুস্থ চুলের জন্য ৫টি অপরিহার্য পুষ্টি

আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা, দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা এখন অনেকের জন্য সাধারণ। বাজারে প্রচুর ব্র্যান্ডের তেল ও শ্যাম্পু থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলকে শুধু বাহ্যিকভাবে পরিচর্যা করা যথেষ্ট নয়; চুলকে মজবুত করতে প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি ও অভ্যাস।
চুলের মূল উপাদান হলো কেরাটিন, যা মূলত এক ধরনের প্রোটিন। প্রোটিনের অভাবে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যায় এবং বৃদ্ধিও থেমে যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম, মাছ, মুরগি ও বাদাম রাখা জরুরি। নিরামিষভোজীরা ডাল, সয়াবিন, কুইনোয়া থেকে প্রোটিন নিতে পারেন।
ভিটামিন এ মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল বা ‘সিবাম’ উৎপাদন বাড়ায়। এটি স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখে ও চুলকে শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করে। গাজর, মিষ্টি আলু ও পালং শাক ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে।
চুল পড়া ও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর হলো ভিটামিন ই। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের ফলিকল সতেজ রাখে। নিয়মিত কাঠবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ও অ্যাভোকাডো খেলে চুলের জেল্লা ফিরে আসে।
চুলের উজ্জ্বলতা ও প্রাকৃতিক মসৃণতার জন্য প্রয়োজন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি চুলের গোড়া মজবুত রাখে ও স্ক্যাল্প হাইড্রেটেড রাখে। সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও নিরামিষভোজীরা ফ্ল্যাক্স সিড, চিয়া সিড ও আখরোট থেকে ওমেগা-৩ পেতে পারেন।
আয়রন চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। আয়রনের অভাবে চুলের ফলিকল পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে চুল দ্রুত পড়ে। পালং শাক, মসুর ডাল ও কুমড়োর বীজ আয়রনের চমৎকার উৎস। আয়রনের শোষণ বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু বা কমলালেবু সঙ্গে রাখা উচিত।
চুলের যত্নে শুধু বাহ্যিক পণ্য ব্যবহার নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই পুষ্টিকর উপাদানগুলো যুক্ত করলে চুল হবে মজবুত, ঝলমলে এবং খুশকিমুক্ত।
ভিওডি বাংলা/জা







