মোরাদাবাদে প্রেমিকজুটিকে হাত-পা বেঁধে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে ভিন্ন ধর্মের প্রেমিকজুটিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী মুসলিম যুবক আরমান এবং ২২ বছর বয়সী হিন্দু তরুণী কাজল প্রেমের সম্পর্কের কারণে তাদের পরিবারের রোষের মুখে পড়েন। অভিযুক্ত কাজলের ভাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা এই জুটিকে হাত-পা বেঁধে কুপিয়ে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মোড়াবাদের পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আরমান সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং কয়েক মাস আগে মোরাদাবাদে ফেরেন। সেই সময়ে তার পরিচয় হয় কাজলের সঙ্গে, এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে কাজলের পরিবার এই সম্পর্ক মানতে অস্বীকার করে। অভিযুক্ত ভাইদের দাবি, তারা বোনকে সম্পর্ক শেষ করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
প্রায় তিন দিন আগে উভয় যুবক নিখোঁজ হন। আরমানের বাবা হানিফ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করলে জানতে পারে কাজলও নিখোঁজ। সন্দেহের ভিত্তিতে কাজলের ভাইদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা আরমান ও কাজলের হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে মরদেহ দুটি মাটিতে পুঁতে রাখে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে।
মোরাদাবাদের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সৎপাল আন্তিল বলেন, “তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কাজলের তিন ভাই। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। হত্যার অভিযোগে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং তাদের মধ্যে দু’জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সতর্ক করেছেন, যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরমানের পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা কোনোভাবে এই সম্পর্কের বিষয়ে জানতেন না। তিনি বলেন, “আরমান চার বছর সৌদি আরবে কাজ করেছেন। তিন মাস আগে দেশে ফেরেন।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের শিকার এই প্রেমিকজুটির পরিবার এবং কমিউনিটি এখন শোক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলমান এবং সকল দায়িত্বরতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনা ভারতের ভিন্ন ধর্মের প্রেমিকদের নিরাপত্তা এবং পরিবার ও সমাজের সামাজিক চাপের বিষয়টিকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এমন ধরনের হত্যা সামাজিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর, এবং সমাজে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
ভিওডি বাংলা/জা







