কারাগারে প্রেম, এরপর বিয়ে:
১৫ দিনের প্যারোলে মুক্তি পেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত যুগল

ভারতের রাজস্থানের একটি কারাগারে পরিচয়, সেখান থেকেই গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ক-শেষ পর্যন্ত যা রূপ নিচ্ছে বিয়েতে। হত্যামামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষ বন্দির বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছেন রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তারা বিয়ের আয়োজন করছেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজস্থানের আলওয়ার জেলার বারোদামেভ এলাকায় তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্যারোলের শর্ত অনুযায়ী, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাদের আবার কারাগারে ফিরে যেতে হবে।
বিয়ে করতে যাওয়া যুগলের নাম প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং হনুমান প্রসাদ। দু’জনেই বর্তমানে বিভিন্ন হত্যা মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। আদালতের অনুমতিতে সীমিত সময়ের জন্য তারা কারাগারের বাইরে আসার সুযোগ পেয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে জয়পুরের সাঙ্গানের ওপেন জেলে বন্দি অবস্থায় প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদের পরিচয় হয়। একই জেলে অবস্থানের সময় তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বিয়ের অনুমতির আবেদন করা হয়।
প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। তদন্তে উঠে আসে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। এই মামলায় প্রিয়া শেঠসহ একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে হনুমান প্রসাদ ২০১৭ সালে আলওয়ার জেলায় সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত হন। মামলার নথি অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারান। এ ঘটনার পর গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
রাজস্থান হাইকোর্ট প্যারোল মঞ্জুরের সময় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি কোনো স্থায়ী মুক্তি নয়। কেবলমাত্র বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যেই সীমিত সময়ের জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ১৫ দিন শেষে উভয়কেই আবার নিজ নিজ কারাগারে ফিরে যেতে হবে। প্যারোলের শর্ত লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগার থেকে শুরু হওয়া এই প্রেম, আদালতের অনুমতিতে বিয়ে-এই ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ভারতজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ একে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, আবার কেউ আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তুলছেন। সব মিলিয়ে, কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর জন্ম নেওয়া এই সম্পর্ক এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভিওডি বাংলা/জা







