অভিনেতা অমল বোসের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ২৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের প্রিয় অভিনেতা অমল বোসের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। পুরো নাম অমলেন্দু বিশ্বাস, অমল বোস ছিলেন ৬০’র দশকে মঞ্চ নাটকে পা রাখার পর থেকে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বেতারসহ সকল মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করেছেন।
অমল বোস ‘ইত্যাদি’ নাটকে ‘নানা’ চরিত্রের মাধ্যমে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি কেবল সংলাপ বা অঙ্গভঙ্গিতেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না, চরিত্রে গভীরতা নিয়ে দর্শকের মনে জীবন্ত করে তুলতেন। তার অভিনয় এবং ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি সকলের প্রিয় হয়ে ওঠেন।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন অমল বোস। তার অভিনয় জীবন শুরু হয় মঞ্চ নাটক দিয়ে। বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৬৬ সালে ‘রাজা সন্যাসী’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এরপর তিনি ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘বিয়ের ফুল’, ‘মিলন হবে কত দিনে’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ’সহ বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালনায়ও হাতেখড়ি করেন। ‘কেন এমন হয়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালনায় নাম লেখান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘অবিচার’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘আমি সেই মেয়ে’, ‘তোমাকে চাই’, ‘মন মানে না’।
দীর্ঘ ও সমৃদ্ধশালী অভিনয় জীবনে তিনি ‘আজকের প্রতিবাদ’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন স্নেহময় ও নম্র।
৭৫ বছর বয়সে ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি অমল বোস পরলোকগমন করেন। তবে তার অভিনয় ও কৌতুকধর্মী চরিত্র আজও দর্শকের মনে অম্লান। ‘নানা’ চরিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের প্রিয় হয়ে থাকবেন, যা তার শিল্পীজীবনের চিরস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, মঞ্চ ও টেলিভিশনের ইতিহাসে অমল বোসের অবদান চিরস্মরণীয়। তার কাজ ও ব্যক্তিত্ব বহু প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।
ভিওডি বাংলা/জা







