ইউএনও’র অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
নবাবগঞ্জে পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ

বাড়ির আশপাশে কিংবা অফিস প্রাঙ্গণে পড়ে থাকা পতিত জমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগালে যে তা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিল্লুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমি এখন পরিণত হয়েছে টাটকা ও বিষমুক্ত সবজির এক সবুজ বাগানে।
সূত্র গেছে, দীর্ঘদিন অনাদরে পড়ে থাকা জমিটি আগাছা ও ময়লায় পরিপূর্ণ ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রথমে জমিটি পরিষ্কার করেন এবং পরবর্তীতে চাষের উপযোগী করে তোলেন।
বর্তমানে ওই জমিতে শসা, লাল শাক, বেগুন, টমেটো, পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ও কচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির চাষ করা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় সবজির পরিচর্যা করায় ফলনও হয়েছে বেশ সন্তোষজনক। কীটনাশকমুক্ত এসব সবজি একদিকে যেমন স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের চাহিদা পূরণ করছে, অন্যদিকে উপজেলা চত্বরের পরিবেশ ও সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, ‘এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনের পরামর্শ দিচ্ছি। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফলে মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছে এবং এটি অন্যদের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।’
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের পতিত জমি এভাবে কাজে লাগালে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ উপজেলার অন্যান্য সরকারি জমিতেও নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে ওঠা এই সবজি বাগান দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। অফিস প্রাঙ্গণে এমন উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ড দেখে স্থানীয়রা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। অনেকেই নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পতিত জমিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।
ভিওডি বাংলা/ অলিউর রহমান মিরাজ/ আ







