আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে নির্বাচনে বিজয়ের পথে মিয়ানমার জান্তা

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে জান্তা-সমর্থিত রাজনৈতিক দল বড় জয়ের পথে থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে সব সমালোচনাকে উপেক্ষা করে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেছেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির চেয়ে জনগণের ভোটই তাদের কাছে বড় স্বীকৃতি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রোববার ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়সহ প্রায় ৬০টি টাউনশিপে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত ভোটে জান্তাপন্থি দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষে ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষে ৭৮টির মধ্যে ৫২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫৫ শতাংশ। যেখানে ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, সেখানে এবার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ ছাড়া প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর সেনাবাহিনী এই নির্বাচন আয়োজন করে।
জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং যুক্তরাজ্য এই নির্বাচনকে সামরিক জান্তার ক্ষমতা ধরে রাখার একটি সাজানো নাটক বা ‘প্রহসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আসিয়ানের সদস্য দেশ মালয়েশিয়াও জানিয়েছে, তারা এই নির্বাচনের ফলাফল সমর্থন করবে না।
এসব সমালোচনার জবাবে রোববার মান্দালয়ের একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি স্বীকার করল কি না, তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের দরকার জনগণের স্বীকৃতি।’
তবে নির্বাচন সফল হয়েছে— জান্তার এমন দাবির বিপরীতে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াঙ্গুনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরজুড়ে বিরাজ করছে ভয় ও আতঙ্ক। গ্রেপ্তার কিংবা সামরিক বাহিনীর প্রতিশোধের আশঙ্কায় অনেকেই ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকলেও অন্যান্য এলাকায় তা ছিল খুবই কম।
নির্বাচনি প্রচারের সময় সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে বিমান হামলা ও সশস্ত্র সংঘাত অব্যাহত ছিল। জান্তার নতুন নির্বাচনি সুরক্ষা আইনের আওতায় এ পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তিকে নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৬৯ বছর বয়সী জেনারেল মিন অং হ্লাইং ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের পদ ছেড়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক ভূমিকায় যেতে পারেন। তবে পরবর্তী সরকারে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে— সে বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন বসার পরই পদ্ধতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/ আ







