মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ও তার বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিমানবাহী রণতরী ও সহগামী যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সরে এসেছেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন—সব বিকল্প এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, স্ট্রাইক গ্রুপটি বর্তমানে ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে’।
ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ডিসেম্বরের শেষ দিকে, মূলত অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে। পরে জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে টানা কয়েক দিন ব্যাপক সড়ক বিক্ষোভের মাধ্যমে তা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন দমন অভিযান চালিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এখনো বিক্ষোভ সত্ত্বেও টিকে রয়েছে। তবে শাসনব্যবস্থার অনেক বিরোধী মনে করছেন, পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য চালিকাশক্তি হতে পারে বাইরের হস্তক্ষেপ।
এর আগে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।
তবে চলতি মাসের শুরুতে তিনি হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে সরে আসেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তেহরান আট শতাধিক পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা স্থগিত করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেন, ইরান নিজেদের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের আগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইরানি জাতিকে রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ়তা ও সংকল্পে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
ভিওডি বাংলা/ আরিফ







