• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান:

১০১ সংগঠনের কঠোর প্রতিবাদ, পুনর্বিবেচনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮ পি.এম.
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ভবন-ছবি-ভিওডি বাংলা

রাজধানীর চানখাঁরপুলে সংঘটিত বহুল আলোচিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রদত্ত রায় প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ১০১টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তারা এ রায়কে “বিচারিক প্রহসন” আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

এই ১০১টি সংগঠন মূলত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘জুলাই ঐক্য’–এর সহযোগী বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে তৎকালীন প্রশাসনের একটি বিশেষ দল রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে অবস্থান নেয়। ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন এডিসি আখতারুল ইসলাম বিপু।  

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ধরনের উসকানি বা প্ররোচনা ছাড়াই উপস্থিত নিরস্ত্র জনতার ওপর চাইনিজ রাইফেল থেকে গুলি চালানো হয়। এ ঘটনায় কনস্টেবল সুজনসহ তিন পুলিশ সদস্য সরাসরি গুলি চালান। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রত্যেক আসামিকে সরাসরি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচার চলাকালে কনস্টেবল সুজনের পক্ষে তার আইনজীবী কোনো শক্তিশালী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন বলেও দাবি করা হয়।

তবে সোমবার ঘোষিত রায়ে ট্রাইব্যুনাল উর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও কনস্টেবল সুজনকে মাত্র তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং অপর দুই কনস্টেবলকে খালাস দেওয়া হয়। এই রায়কে কেন্দ্র করেই ১০১ সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “এই রায় আমাদের গভীরভাবে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। চানখাঁরপুলে নিহত ছয় শহিদের রক্তের প্রতি এটি চরম অবমাননা।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় কনস্টেবল সুজনের গুলিতে একের পর এক মানুষ নিহত হলেও তিনি উল্লাস প্রকাশ করেন। এমন একজন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি না দেওয়া ন্যায়বিচারের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণার শামিল বলে দাবি সংগঠনগুলোর।

১০১ সংগঠনের যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, এই রায় পুনর্বিবেচনা না করা হলে তারা কঠোর থেকে কঠোরতম আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়,

“শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি আমরা কখনোই বরদাশত করবো না। কর্তৃপক্ষ যদি এই রায় পুনর্বিবেচনা না করে, তবে পরবর্তী পরিস্থিতির দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই বহন করতে হবে।”

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে-আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, পুনাব, পুশাব, নেক্সাস ডিফেন্স, সাধারণ আলেম সমাজ, জাগ্রত জুলাই, জুলাই মঞ্চ, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রসংগঠন (কছাস), বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন, জুলাই ছাত্র জনতা সংসদ, জুলাইয়ের সাংবাদিকরা, বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ, জেন-জি স্টুডেন্ট ইউনিটি, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব (ঢাকা কলেজ), রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, সিসিএস (CCS)-জাতীয় ভোক্তা অধিকার, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক (ঢাবি), রাইজিং ইয়ুথ রামপুরা, পিপলস রিফর্ম অ্যালায়েন্স, নাপুস, একতার বাংলাদেশ, তরুণ, জুলাই বিপ্লবী যুব সংগঠনসহ আরও বহু সংগঠন।

এছাড়াও মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, ফ্যাসিবাদমুক্ত গণমাধ্যম চাই, জাতীয় শ্রমিক ঐক্য, বিক্ষুব্ধ কবি ও লেখক সমাজ, ইয়ুথ ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ছাত্র, যুব, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এতে সংহতি প্রকাশ করেছে।

চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের রায়কে ঘিরে নতুন করে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, এই রায় ভবিষ্যতে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যেকোনো দিন রায় আসছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায়
যেকোনো দিন রায় আসছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায়
চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
সরোয়ার আলমগীর: চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতাকে জামিন দিলেন হাইকোর্ট
স্ত্রী-সন্তান হারানো ছাত্রলীগ নেতাকে জামিন দিলেন হাইকোর্ট