• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইশরাক হোসেন:

প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২২ পি.এম.
গেন্ডারিয়া ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইশরাক-ছবি-ভিওডি বাংলা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটাধিকার রক্ষায় নারী ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে দলকে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান এবং সতর্ক করে বলেন, যদি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যায়, তাহলে নারীদের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুতর হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তিনি নারীদের চলাফেরা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানী গেন্ডারিয়া ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক  বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ নিয়ে কী পরিকল্পনা করেছে, আমরা জানি না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী? স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী? 

বর্তমানে নগরীর যে অবস্থা রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, চারদিকে নোংরা ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। জলাশয়গুলো দখল হয়ে গেছে। আমাদের রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে।

যানবাহন চলাচল করতে পারে না, মানুষজন ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারে না। কিছুদিন পর আমরা বর্ষা মৌসুমে প্রবেশ করবো। তার আগে আমাদের যে পরিমাণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু যতটুকু আছে, সেগুলো সচল করার জন্যও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আসতে চায়, সেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল নগরবাসীর কাছে এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছে না।

এর পাশাপাশি দূষণ নিয়ে তারা কী করবে, আগামী দিনে এই নগরীকে বাসযোগ্য করে তুলতে তাদের কী পরিকল্পনা রয়েছে আমরা জানি না। তাদের একটাই কথা, একটাই ভাঙা রেকর্ড চাঁদাবাজ, চাঁদাবাজ, চাঁদাবাজ”।

ইশরাক বলেন, আমার কথা হচ্ছে, চাঁদাবাজি যদি হয়ে থাকে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করা ও রোধ করা সরকারের দায়িত্ব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নেই; বরং আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোকেই সরকারি দল হিসেবে বিবেচনা করে অনেকে। অতএব যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা চাঁদাবাজি হয়ে থাকে, তাহলে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে নারী সমাজের উদ্দেশ্যে বলছি কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও ভোট দিতে যাবেন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করুন।  

কারণ যদি কোনো কারণে আমাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ভুল করেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যায়, তাহলে তারা নারীদের গৃহবন্দী করে ফেলবে। তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হবে, তাদের কোনো কর্মসংস্থান থাকবে না, তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে না এবং তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা হবে। আসলে তারা আমাদের সবারই স্বাধীনতা হরণ করবে, আর নারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পাহাড়ি-সমতল নির্বিশেষে সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে। প্রত্যেক পাঁচ বছর পর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে এটাই বিএনপির বিশ্বাস।

প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদের বক্তব্য দুর্বল, তারাই অশালীন ভাষা ব্যবহার করে। আমরা এসবকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। জনগণই ১২ ফেব্রুয়ারি তার জবাব দেবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি আগামী দিনে একটি দূষণমুক্ত, বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চায়, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠবে। পাশাপাশি আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরে বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার ভিত্তি রচনা করতে চায় বিএনপি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে আমি ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাকে সুযোগ দিলে ইনশাআল্লাহ আপনাদের হতাশ করবো না। আমি দেশ ও জনগণকে পরিবারের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। 

ভিওডি বাংলা-সবুজ/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী
তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী
এবারের নির্বাচন সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
এবারের নির্বাচন সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: হাবিব
প্রতিহিংসার রাজনীতি নয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: হাবিব